প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিষ্টান ধর্মীয় টেলিভিশন উপস্থাপক জিম বাকার মারা গেছেন। এক সময় তিনি বিশাল জনপ্রিয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও একটি বৃহৎ ধর্মীয় সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, তবে যৌন কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অপরাধের কারণে সবকিছু হারান। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৮৬ বছর।
জিম বাকার সোমবার (৫ অক্টোবর) মারা যান। তার দ্বিতীয় স্ত্রী লরি বাকার এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
লরি বাকার বলেছেন, "জিম ছিলেন খ্রিষ্টান টেলিভিশনের পথিকৃৎ।" তবে তার কাছে জিম ছিলেন স্বামী, সবচেয়ে ভালো বন্ধু এবং জীবনের নানা সময়ের বিশ্বস্ত সঙ্গী।
জিম বাকারের দ্বিতীয় স্ত্রী লরির সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ব্র্যানসন শহরের কাছে বসবাস করতেন। ২০০৩ সালে শুরু হওয়া ‘দ্য জিম বাকার শো’ সেখান থেকেই ধারণ করা হতো। ২০২০ সালে জিম বাকারের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত পক্ষাঘাত হয়েছিল।
জিম বাকারের সবচেয়ে বড় খ্যাতি আসে তার প্রথম স্ত্রী ট্যামি ফেই বাকারের সঙ্গে পরিচালিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘দ্য পিটিএল ক্লাব’ থেকে। অনুষ্ঠানটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে একপর্যায়ে প্রতিদিন রাতে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ দর্শক এটি দেখতেন।
১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বড় হয়। তাদের উদ্যোগের মধ্যে ছিল টেলিভিশন অনুষ্ঠান, দক্ষিণ ক্যারোলিনার ফোর্ট মিলের একটি ধর্মভিত্তিক বিনোদন পার্ক ও হোটেল।
তবে বিপুল সাফল্যের পর যৌন কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অপরাধের ঘটনায় বাকারের সাম্রাজ্যে ধস নামে। তিনি সবকিছু হারান এবং ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন।
জিম বাকারের জন্ম মিশিগানের মাসকিগনে। মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসের নর্থ সেন্ট্রাল বাইবেল কলেজে পড়ার সময় ট্যামি ফেইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯৬১ সালে তাদের বিয়ে হয়।
পরে দুজনেই পড়াশোনা ছেড়ে নিজেদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড শুরু করেন। জিম ধর্মীয় বক্তব্য দিতেন আর ট্যামি ফেই গান গাইতেন ও অ্যাকর্ডিয়ন বাজাতেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গির্জা ও ধর্মীয় সমাবেশে ঘুরে বেড়াতেন।
তাদের কর্মকাণ্ড নজরে আসে খ্রিষ্টান টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব প্যাট রবার্টসনের। ১৯৬৫ সালে তারা রবার্টসনের খ্রিষ্টান সম্প্রচার নেটওয়ার্কে শিশুদের জন্য একটি অনুষ্ঠান শুরু করেন। পরের বছর জিম ‘দ্য সেভেন হান্ড্রেড ক্লাব’ নামের ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা শুরু করেন।
১৯৭২ সালে সেই প্রতিষ্ঠান ছাড়েন জিম। দুই বছর পর তিনি ‘পিটিএল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠা করেন। ‘পিটিএল ক্লাব’ ছিল এর প্রধান অনুষ্ঠান। পিটিএল-এর অর্থ প্রেইজ দ্য লর্ড, অর্থাৎ প্রভুর প্রশংসা।
১৯৮০-এর দশকে ‘দ্য পিটিএল ক্লাব’ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে। লাখ লাখ মানুষ অনুষ্ঠানটি দেখতেন এবং অনুসারীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আসত।
অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন অতিথি ও খ্রিষ্টান শিল্পীদের সঙ্গে আলোচনা করা হতো। জিম ধর্মীয় বক্তব্য দিতেন, আর ট্যামি ফেই গান গাইতেন। ভারী সাজসজ্জা ও ঘন মাশকারার জন্যও ট্যামি ফেই ছিলেন ব্যাপক পরিচিত।
তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও বিপুল সম্পদের কারণে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠানেও তাদের নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে রাতের টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোতে তাদের নিয়ে নিয়মিত রসিকতা করা হতো। জনপ্রিয় হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠান ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’-এও তাদের অনুকরণ করা হয়।
জিম ও ট্যামি ফেই বাকারের জীবন নিয়ে ‘দ্য আইজ অব ট্যামি ফেই’ নামে একটি চলচ্চিত্রও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পায়।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন