প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : শনিবার, অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে অভিযান চালিয়ে ইসরাইলি বাহিনী প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়িঘর ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে।
একদিন আগে, দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীর গুলিতে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হয়। এরপর, ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ওই দুই হামলাকারীও নিহত হন। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে যাতে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গভীর রাতে সেনারা মাইক দিয়ে নির্দেশ দেয় যে, তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে হবে। এরপর তারা যতটা সম্ভব জিনিসপত্র গুছিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, দুই হামলাকারীর বসবাসের এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, হেবরনে হামাস-সংক্রান্ত সব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফিরতে দেওয়া হবে না।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, শুক্রবার ও শনিবার পশ্চিম তীরের ৪০টি এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের মধ্যে উসকানি, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনও রয়েছে।
হামাস শুক্রবারের হামলার দায় স্বীকার না করলেও হামলাকারীদের প্রশংসা করেছে এবং ফিলিস্তিনিদের আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে দেখা যায়নি এমন ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসরাইলের ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ জানিয়েছেন, শুক্রবারের হামলার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘অবৈধ স্থাপনার একটি সারি অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ নির্দেশ দিয়েছেন। স্মোত্রিচ পশ্চিম তীরের বেসামরিক বিষয়গুলো তদারকির দায়িত্বেও রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘যারা আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করবে, তারা দ্রুত বুঝতে পারবে যে এর জন্য তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।’
হেবরনের আইন দেইর বাহা এলাকায়, দুটি পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত পাড়াটির পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে ক্রস চিহ্ন দেওয়া দেখা গেছে। রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য। সেখানে কেবল ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দুটি সামরিক যান দেখা যায়। পাহাড়ের ঢালে একটি বাড়িতে ইসরাইলি পতাকা টাঙানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেনারা বাড়িটি দখলে নিয়েছে।
এলাকার দোকানি ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ৭০ বছর বয়সী হিগাজি শাওয়ার আল-তামিমি জানান, রাত ১টার দিকে সেনা ও এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে এলাকা ছেড়ে যেতে বলেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমি তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কত দিন এই উচ্ছেদ চলবে। তারা বলেছিলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত।’
তিনি জানান, জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার জন্য খুব অল্প সময় দেওয়া হয়েছিল। অনেক বাসিন্দার জন্য এলাকা ছেড়ে বের হওয়াও ছিল কঠিন। তামিমি বলেন, ‘যেমন, আমার স্ত্রীর ৯০ বছর বয়সী মা এই এলাকাতেই থাকেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় তাকে বহন করে বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছে।’
তামিমির অভিযোগ, নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের রক্তের বিনিময়ে নির্বাচনে জয়ী হতে চান বলেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি দখলদারত্বের সব পর্যায় দেখেছি। আমি এখানেই থাকব, এখানেই মারা যাব।’
তার ভাই ৬৮ বছর বয়সী খালেদ শাওয়ার আল-তামিমি উচ্ছেদের পর ছেলের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সেনারা মাইকে ঘোষণা দিচ্ছিল, ‘এলাকা ছেড়ে চলে যান।’ তাই আমরা চলে এসেছি।’
শুক্রবারের হামলাকারীরা তাদের পাড়ার বাসিন্দা—এ কথা শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান। তার ভাষায়, এলাকাটি মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাসের জায়গা এবং সেখানকার বাসিন্দারা আইন মেনে চলেন।
ছেলের বসার ঘরে বসে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো গুলির শব্দ শুনিনি, এমনকি এমন কিছু ঘটতেও দেখিনি।’
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমাকে কেন নিজের বাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত হতে হবে? হামলাকারীরাই কাজটি করেছে। ইসরাইল সরকার যদি তাদের শাস্তি দিতে চায়, তাহলে তাদের শাস্তি দিক।’
হেবরনের গভর্নর খালেদ দুদিন এএফপিকে বলেন, সেনাবাহিনী প্রথমে হামলাকারীদের পাড়ায় অভিযান শুরু করেছে। তবে অভিযান আরও বিস্তৃত হবে না— এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তিনি এ পদক্ষেপকে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। গভর্নরের হিসাবে, এ ঘটনায় ১৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হেবরনের মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি ও স্থানীয় অধিকারকর্মী ঈসা আমরোর হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ২৫০।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন