প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি সুন্দর এবং উন্নত ভবিষ্যতের জন্য শিশুর প্রাপ্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা একাই যথেষ্ট নয়, বরং একটি স্থিতিশীল পারিবারিক কাঠামোও অপরিহার্য। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, বাবা ও মায়ের সম্মিলিত সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুরা তাদের শিক্ষাজীবনে শুধু ভালো করে না, বরং মানসিকভাবে অনেক বেশি সুসংহত ও স্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের ধরন আলাদা হলেও শিশুর পূর্ণ বিকাশের জন্য একটি ভারসাম্য সৃষ্টির মধ্যে নিহিত রয়েছে দুই পক্ষের গুরুত্ব। বাবা-মায়ের মধ্যে শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্কও এর জন্য অপরিহার্য।
১. মায়ের স্নেহ ও আবেগীয় নিরাপত্তা
গবেষণার ফলে দেখা যায়, মায়েরা সাধারণত শিশুদের প্রতি অধিক আবেগপ্রবণ, ধৈর্যশীল এবং সংবেদনশীল হন। শিশুর যেকোন সংকটের সময় মা অগ্রসরে উপস্থিত হয়ে শিশুটির পাশে দাঁড়ান, যা শিশুর মনে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা এবং নিরাপত্তার বোধ তৈরি করে। এ কোমল আচরণ শিশুটিকে আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করে এবং মানসিকভাবে সুরক্ষিত রাখে।
২. বাবার শাসন ও শৃঙ্খলা
অন্যদিকে, বাবারা পরিবারের কাঠামো ও শৃঙ্খলার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। বাবার এই দিকটি বাবা সন্তানকে নিয়ম মেনে চলতে শেখায় এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে উৎসাহিত করে। যা শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করে।
৩. খেলাধুলা ও স্বাধীনতা
মায়েরা সাধারণত শিশুকে শান্ত ও নিরাপদ রাখতে চান, কিন্তু বাবারা শিশুদেরকে নিয়ে সক্রিয় এবং রোমাঞ্চকর খেলাধুলায় মেতে ওঠেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বাবারাই শিশুদেরকে শারীরিক পরিশ্রমের কাজে বা খেলাধুলায় উৎসাহিত করেন ও কৈশোর থেকে যৌবনে উত্তরণের সময় বাবারাই সন্তানদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রেরণা দেন।
৪. পরিবার ও শিশুর সুরক্ষা
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জৈবিক বাবা ও মায়ের স্থিতিশীল সংসারে বেড়ে ওঠা শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ থাকে। এ ধরনের পারিবারিক কাঠামো শিশুকে শুধু দারিদ্র্য থেকে রক্ষা করে না, বরং শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনার ঝুঁকিও অনেক কমিয়ে দেয়।
বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, দুই অভিভাবকের শানিত উপস্থিতিতে শিশু সাধারণত যে স্থিতিশীল আবেগপ্রবণ পরিবেশ পায়, তা তাদের উন্নতির জন্য চূড়ান্ত সহায়ক হয়ে থাকে। ২০ লাখের বেশি শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা গেছে, যেসব পরিবারে দুই অভিভাবক উপস্থিত থাকেন, সেখানে শিশুর শিক্ষাগত সাফল্য তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। অন্যদিকে, একক অভিভাবকের বাড়িতে বেড়ে ওঠা সন্তানদের শিক্ষা অর্জন করতে একটু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। কারণ সিঙ্গেল মা বা বাবা তাদের কাজ ও দায়িত্ব একা সামলাতে গিয়ে অনেক বেশি চাপ অনুভব করেন। এতে শিশুর মানসিক সমর্থন কমে যেতে পারে, এবং পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে আর্থিক অসংগতিও একটি বড় কারণ হয়ে ওঠে।
মূল কথা হল, একটি শিশুর জন্য শুধুমাত্র দুজন অভিভাবক থাকা যথেষ্ট নয়, বরং তাদের মা ও বাবার ভিন্ন ভিন্ন স্নেহ, শাসন এবং সুরক্ষার উপাদানগুলো একত্রিত হয়ে শিশুর জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে বৈবাহিক স্থিতিশীলতাই একটি শিশুর সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার সবচেয়ে কার্যকর আশ্রয়।
সূত্র: দ্য লায়ন অবলম্বনে
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন