প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যাচাই-বাছাই ছাড়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রকাশে বাংলাদেশ অনলাইন সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের ক্ষোভ
সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহকে জড়িয়ে চাঁদা দাবি ও মানহানিকর অভিযোগসংবলিত সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ অনলাইন সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ রনি শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুয়েল রানা।
গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে হাওর বার্তা ডটকম, সময়ের খবরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহকে জড়িয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ অনলাইন সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রনি শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুয়েল রানা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একজন কর্মরত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বক্তব্য গ্রহণ করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব।
তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের লিখিত অভিযোগ সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হলেই তা সত্য প্রমাণিত হয় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন যথাযথ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য। যাচাই-বাছাই ছাড়া একতরফা অভিযোগ প্রকাশের ফলে একজন সাংবাদিকের দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহ তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি কারও কাছে কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করেননি এবং উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী সুজন মিয়ার অভিযোগও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বাংলাদেশ অনলাইন সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, সুজন মিয়া নামে যে ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, সেই অভিযোগের সত্যতা নিয়েও যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তারা বলেন, সুজন মিয়াকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ ও বিতর্কের কথা বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে মাদক ব্যবসা, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল ও ভূমিদস্যুতার মতো অভিযোগও রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়; যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতে কোনো রাজনৈতিক সময়কালে কারও বিরুদ্ধে ক্যাডার বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা, চাঁদাবাজি বা ভূমিদস্যুতার অভিযোগ থেকে থাকলে সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা যেতে পারে। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কোনো ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একজন সাংবাদিককেও অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা আরও বলেন, সত্য উদঘাটনের স্বার্থে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
জেলা প্রশাসনের প্রতি তদন্তের আহ্বান
বাংলাদেশ অনলাইন সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রনি শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুয়েল রানা জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং তদন্তে যার বিরুদ্ধে যে ধরনের অপরাধের সত্যতা পাওয়া যাবে, তিনি যে পক্ষেরই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
তারা বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক পরিচয়, পেশাগত পরিচয় কিংবা অন্য কোনো প্রভাবের কারণে যেন কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না থাকে। একইভাবে নিরপরাধ কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি বা সামাজিকভাবে হেয় করার সুযোগও কাউকে দেওয়া উচিত নয়।
সাংবাদিকের বক্তব্য গ্রহণ না করে সংবাদ প্রকাশ দুঃখজনক
সভাপতি মোঃ রনি শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুয়েল রানা বলেন, একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অপরিহার্য অংশ।
তারা বলেন, কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে একজন সাংবাদিককে চাঁদাবাজ হিসেবে জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হলে তাঁর পেশাগত জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান
বাংলাদেশ অনলাইন সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হাওর বার্তা ডটকম, সময়ের খবরসহ সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকাশিত সংবাদে যদি কোনো তথ্যগত ভুল, অসম্পূর্ণতা কিংবা একতরফা বক্তব্য থেকে থাকে, তাহলে বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহের বক্তব্য যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও প্রতিবাদ প্রকাশ করা হোক।
তারা বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ কারও বিরুদ্ধে যাচাইহীন অভিযোগ প্রচারের স্বাধীনতা নয়। স্বাধীন সাংবাদিকতার সঙ্গে তথ্যের যথার্থতা, বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে।
অপরাধী যে-ই হোক, আইনের আওতায় আনার দাবি
বাংলাদেশ অনলাইন সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দৃঢ়ভাবে বলেন, আমরা কোনো পক্ষের অন্ধ সমর্থন চাই না; আমরা চাই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক।
সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য হলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আবার অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে অভিযোগকারী বা সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তাদের বক্তব্য, “অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে; আর নিরপরাধ হলে কাউকে হয়রানি বা অপমান করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।”
বাংলাদেশ অনলাইন সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব মনে করে, একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংবাদ প্রকাশের আগে যেমন সাংবাদিকের বক্তব্য নেওয়া জরুরি, তেমনি অভিযোগকারী ব্যক্তির পরিচয়, অভিযোগের ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য-প্রমাণও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহের বিরুদ্ধে প্রকাশিত কোনো তথ্য মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর হলে তিনি প্রচলিত আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিকার গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করেন।
বাংলাদেশ অনলাইন সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহকে জড়িয়ে প্রকাশিত অভিযোগসংবলিত সংবাদসমূহের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও জোরালো প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান—বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করুন এবং তদন্তে অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেলে অপরাধী যে পক্ষেরই হোক, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
মোঃ রনি শিকদার
সভাপতি
বাংলাদেশ অনলাইন সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব
কেন্দ্রীয় কমিটি।
মোঃ জুয়েল রানা
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ অনলাইন সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব
কেন্দ্রীয় কমিটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন