প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশের জাপানের আকর্ষণীয় বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাস এ চুক্তির দ্রুত কার্যকর ও যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
বাসসের প্রশ্নের লিখিত জবাবে দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানায়, চুক্তির সুফল বাস্তব অর্থনৈতিক অর্জনে রূপান্তরিত করতে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিধান, বিশেষ করে শুল্কসুবিধা ও পণ্যের উৎপত্তির নিয়ম সম্পর্কে সঠিকভাবে অবহিত করা আবশ্যক।
২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত ইপিএ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
দূতাবাস জানায়, চুক্তিটি কার্যকর হলে সম্মত শুল্কসূচির আওতায় অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাওয়া যাবে। সেবা, বিনিয়োগ, শুল্কপ্রক্রিয়া, ই-কমার্স ও মেধাস্বত্বের মতো বিষয়গুলোতে বিধান থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে পূর্বানুমানযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
দূতাবাস বলেছে, ‘এ মুহূর্তে অগ্রাধিকার হলো চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।’ এ জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং চুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) মধ্যে চুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে দূতাবাস। তাদের মতে, এ বিষয়ে প্রচার ও তথ্য সরবরাহের উদ্যোগ বৃদ্ধি পেলে আরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নতুন বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় আসতে পারবে এবং চুক্তির সুফল ভোগ করতে সক্ষম হবে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) শ্রেণি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে ইপিএ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের রপ্তানি, বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব পরিকল্পনায় আরও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ প্রদান করতে পারে।
দূতাবাস জানায়, চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুফল পেতে দুই দেশের সরকার ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ অপরিহার্য।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে উভয় পক্ষ যৌথ কমিটিসহ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলো কাজে লাগাতে পারবে।
তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুযোগ
ইপিএর বাইরেও জাপানের বাজারে তৈরি পোশাকের (আরএমজি) বাইরে বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। এ ক্ষেত্রে চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা বিশেষ সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে গাড়ির যন্ত্রাংশসহ উৎপাদনশিল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন খাতের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
তবে জাপানের বাজারে প্রবেশ বাড়াতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সে দেশের বাজারের চাহিদা ও নিয়মকানুন সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা অর্জন করতে হবে। পণ্যের মান ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা, নির্ভরযোগ্য সময়ে সরবরাহ এবং পরিবেশ, শ্রম ও পণ্যের মানসংক্রান্ত প্রযোজ্য বিধিবিধান মেনে চলাও জরুরি।
ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে জাপানের পণ্য অনুমোদন এবং উৎপাদনের গুণগত মানসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দূতাবাস উল্লেখ করেছে।
উৎপাদন ও জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উৎপাদনশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোগ্যপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, সরবরাহ ও পরিবহনসেবা এবং জ্বালানির কথা উল্লেখ করেছে দূতাবাস।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বিএসইজেড) জাপানি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
দূতাবাসের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা গেলে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে নতুন কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা এবং বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আরও উৎসাহিত হবেন।
দূতাবাস বলেছে, ইপিএর পাশাপাশি শিল্প খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা গেলে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন