প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তান আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড না রাখার অনুরোধও করেছে দেশটি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের তৃতীয় কমিটির সাধারণ বিতর্কে পাকিস্তানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন এই আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন জোরালোভাবে প্রয়োগ করা এবং অন্য পরিস্থিতিতে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
উসমান জাদুন বলেন, কাশ্মীরের জনগণ প্রায় আট দশক ধরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব প্রস্তাবে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অবাধ ও নিরপেক্ষ গণভোটের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের পর জম্মু ও কাশ্মীরে মৌলিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ ও দমন-পীড়ন বেড়েছে। একই সঙ্গে, অঞ্চলটির জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক চরিত্র পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগ পাকিস্তানের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।
ভারতের প্রতিনিধি জবাবে কাশ্মীরকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে পাকিস্তানের প্রতিনিধি সারফরাজ আহমেদ গোহর বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এবং এর চূড়ান্ত মর্যাদা সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘের প্রস্তাব ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে পাকিস্তানের অবস্থান।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে উসমান জাদুন বলেন, বিশেষ করে গাজায় ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, বাধাহীন মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। একই নীতি জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের এই প্রতিনিধি। তিনি বলেন, এসব দেশ সংকুচিত আর্থিক সক্ষমতা, টেকসই নয় এমন ঋণ, জলবায়ুজনিত অভিঘাত এবং প্রযুক্তিগত বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছে। উন্নয়নের অধিকারকে মানবাধিকারের আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামবিদ্বেষ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উসমান জাদুন। ঘৃণাত্মক বক্তব্য, বৈষম্য, ধর্মীয় প্রতীক অবমাননা এবং মুসলিম ও তাদের উপাসনালয়ে হামলার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ধারাবাহিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির সুফল যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোও সমানভাবে পায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
পরে আরেক দফা জবাবে ভারতের প্রতিনিধি ভাভিকা মাঙ্গালানন্দন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ততা ও সংখ্যালঘুদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন এবং কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে পুনর্ব্যক্ত করেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের প্রতিনিধি বলেন, বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধানে ইসলামাবাদ সংলাপ, কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের নীতির আলোকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে ভারতকেও একই পথ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি। তথ্যসূত্র: দ্য ডন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন