প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় মগড়া নদীর ভাঙন থেকে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় নেওয়া প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও ভেজা বালু ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মগড়া নদীর ভাঙনে বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে পড়ায় তা রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তবে কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ভেজা বালু দিয়ে কাজ করায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষার উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু যেভাবে কাজ করা হয়েছে, তাতে আগামী বর্ষায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা টিকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি কাজের মান যাচাই করে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয় রক্ষার কাজ চললেও এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটিকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। দৃশ্যমান তদারকির অভাবেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে সায়েম মিয়া নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, প্রকল্পের কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা যথাযথভাবে তদারকি করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সরকারি বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করা হলে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।
মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—প্রকল্পের কাজের মান নিরপেক্ষভাবে যাচাই, বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। এরই মধ্যে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মগড়া নদীর ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় নেওয়া প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের পর এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা হবে এবং শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন