প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিস্তারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কেনিয়া ও ঘানায় আর্টিমিয়া চাষ এবং গিফট তেলাপিয়া প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদার করা, যা টেকসই মৎস্য চাষে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক কর্মশালায় আর্টিমিয়া চাষ, সমন্বিত লবণ-আর্টিমিয়া-মৎস্য চাষব্যবস্থা এবং গিফট তেলাপিয়ার দায়িত্বশীল বিস্তার নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই কর্মশালায় তিন দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন অংশীদার, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং মৎস্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের কক্সবাজারের লবণ মাঠে লবণ উৎপাদনের পাশাপাশি আর্টিমিয়া, চিংড়ি, তেলাপিয়া, কাঁকড়া ও সবজি চাষের সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ আর্টিমিয়ার সিস্ট ও বায়োমাস উৎপাদন, হ্যাচারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পুষ্টি-সংবেদনশীল মাছ চাষে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এসব প্রযুক্তি কেনিয়া ও ঘানায় প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।
আর্টিমিয়া হলো ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী, যা মাছ ও চিংড়ির হ্যাচারিতে গুরুত্বপূর্ণ জীবন্ত খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর সিস্ট ও বায়োমাস উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে হ্যাচারি শিল্পের খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি লবণাক্ত এলাকায় সমন্বিত কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কর্মশালায় বাংলাদেশের তিন দশকের গিফট তেলাপিয়া উন্নয়ন ও বিস্তারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ গোলাম হোসেনের প্রণীত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এ.এইচ.এম. কহিনুর ও জিল্লুর রহমান। এতে গিফট তেলাপিয়ার দায়িত্বশীল বিস্তার, জেনেটিক মান সংরক্ষণ এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে মানসম্মত পোনা উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা আলোচনা করেন, বাংলাদেশের গবেষণা, প্রজনন ও মাঠপর্যায়ের সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা কেনিয়া ও ঘানার মৎস্য খাতে কিভাবে কাজে লাগানো যায়। উন্নত জাতের তেলাপিয়ার জেনেটিক মান ধরে রাখা, মানসম্মত পোনা উৎপাদন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ.টি.এম. ফারুক-উল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা মৎস্য চাষে উদ্ভাবন, গবেষণা ও টেকসই সমাধান বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি তিন দেশের মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উৎপাদনশীল, জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জলজ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
ওয়ার্ল্ডফিশের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. খন্দকার মুরশেদ-ই-জাহান বলেন, ‘গিফট একটি পরীক্ষিত ও সফল প্রযুক্তি। তবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে এ প্রযুক্তি কার্যকরভাবে স্থানান্তর ও বিস্তারের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।’
কর্মশালায় বিসিকের পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ইনল্যান্ড ফিশারিজ) ড. মোতালেব হোসেন এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা, পরিকল্পনা ও অর্থ) ড. আমিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন