মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
১২:৩৯ এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ এক নারীকে আটকের পর উদ্ধারকৃত মালামাল ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল তোলপাড় চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার দ্বারিয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সন্দেহভাজন এক নারীকে আটক করা হয়। তিনি পার্শ্ববর্তী ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে তার সুনির্দিষ্ট নাম-পরিচয় কেউ প্রকাশ করতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর ওই নারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, নগদ দেড় লাখ টাকা ও সোনা উদ্ধার করা হয়। ফেনসিডিলের পরিমাণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও স্থানীয়দের একাংশের মতে তা ১৮০ থেকে ৬০০ বোতল পর্যন্ত হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, উদ্ধারের পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র মাদক ও মূল্যবান সামগ্রীর বড় একটি অংশ নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে সটকে পড়ে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে-সত্যিই যদি এত বিপুল মালামাল উদ্ধার হয়ে থাকে, তবে কেন পুলিশি জব্দ তালিকা (সিজার লিস্ট) করা হলো না? উদ্ধারকৃত মালামালই বা গেল কোথায়?
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন জানান, "সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে একাধিকবার পুলিশ পাঠানো হয়েছে, কিন্তু স্থানীয় কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে; সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ঘুরতে এসে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন দুই রোহিঙ্গা কিশোর-কিশোরী।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন, কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৭ নম্বর ক্যাম্পের বি-ব্লকের আব্দুর রহমানের ছেলে মো. ইসমাঈল (১৭) এবং একই ব্লকের জাফর আহমেদের মেয়ে নুমিনা খাতুন (১৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসমাঈল ও নুমিনা কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নোয়াখালীর চরমজিদ ভূঞারহাট এলাকায় ঘুরতে আসেন। শনিবার রাত ৮টার দিকে তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয় দেন এবং ঘুরতে আসার কথা জানান। পরে এলাকা থেকে চলে যাওয়ার জন্য একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে গেলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে চরজব্বর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। রবিবার সকালে তাদের পুনরায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। রোহিঙ্গাতো সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে গেছে, রোহিঙ্গা আর আটকের কি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণহানির ঘটনা, উদ্বেগের পাশাপাশি শিল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তবে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী, যিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, দুর্ঘটনার কারণে সম্ভাবনাময় এই শিল্প বন্ধের বিপরীতে শ্রমিকের জীবন এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আধুনিকায়নের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, 'শ্রমিকের জীবন রক্ষা করেই শিল্পকে বাঁচাতে হবে।'
সম্প্রতি, ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায়, সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, জাহাজ কাটার আগে গ্যাস পরীক্ষা, গ্যাসমুক্ত সনদের যথার্থতা, আবদ্ধ ট্যাংকে শ্রমিক প্রবেশ, বায়ু চলাচল এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থাগুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পুরনো জাহাজের বিভিন্ন ট্যাংক ও আবদ্ধ স্থানে তেল, গ্যাস অথবা রাসায়নিক পদার্থের অবশিষ্টাংশ থেকে বিপজ্জনক গ্যাস জমে থাকতে পারে। বাইরে থেকে ট্যাংক নিরাপদ মনে হলেও ভিতরে প্রাণঘাতী পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা স্বস্তির নয়। অতএব, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া সেখানে শ্রমিক প্রবেশ করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, কেবল কাগজে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে হবে না, বরং প্রতিটি ধাপে বাস্তব নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন আসলাম চৌধুরী। তার মতে, 'জাহাজ কাটার আগে আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে গ্যাস পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে।'
তিনি আরো যোগ করেন, 'কাগজে-কলমে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেই হবে না, বাস্তবে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একজন শ্রমিক জীবিকার জন্য কাজে আসবেন, জীবন দিতে নয়।'
এরপর আসলাম চৌধুরী বলেছেন, 'জাহাজভাঙা শিল্প দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিপুলসংখ্যক মানুষ রয়েছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে। তাই কোনো দুর্ঘটনার পর আবেগের বশবর্তী হয়ে পুরো শিল্প বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। বরং কোথায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে কঠোরভাবে সংশোধন করতে হবে।'
সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে দেখতে উদ্যোক্তাদের তৎপরতাও বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায়, রাইজিং গ্রুপের চেয়ারম্যানের শিপইয়ার্ড পরিদর্শন ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, শিপইয়ার্ডে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জাহাজ রিসাইক্লিং কার্যক্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য প্রতিটি শিপইয়ার্ডে নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট চালুর প্রয়োজন রয়েছে। জাহাজ ইয়ার্ডে প্রবেশের আগে গ্যাসমুক্ত সনদ যাচাইয়ের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতি পরীক্ষা করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ট্যাংক ও আবদ্ধ স্থানে কাজের জন্য পৃথক নিরাপত্তা প্রটোকল এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল থাকা জরুরি।
আসলাম চৌধুরী বলেন, 'জাহাজভাঙা শিল্প বন্ধ নয়, নিরাপদ করতে হবে। শ্রমিকের জীবন রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে এই শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।'
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পের জন্য সতর্কবার্তা হলেও এটিকে পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান, দায় নির্ধারণ, নিরাপত্তা ঘাটতি দুর করা এবং ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই শিল্প নতুন আস্থার জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হবে। আসলাম চৌধুরীর বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি মৌলিক বার্তা যে, শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, এবং নিরাপদ শিল্পই পারে সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা খাতকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে, এমনটাই মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’কে দেশের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের সঙ্গে একত্রিত করে দাবি করেছেন যে, তার সরকার এই বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না।
শনিবার, নিজের ভবানীপুর নির্বাচনি এলাকায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ‘বাংলায় থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে। জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের বিষয়ে এই মুখ্যমন্ত্রী কোনো আপস করবেন না।’
এ সময় শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, এবং ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালন করার বিরোধিতা করার জন্য ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’ এবং ‘জিহাদি’ শক্তিকে অভিযুক্ত করেন।
শুভেন্দু অধিকারী আরও মন্তব্য করেন, ‘দেশবিরোধীদের সমর্থনে গণমাধ্যমের একটি অংশ যা-ই লিখুক না কেন, আমরা যাদবপুরের ভেতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করব।’
তিনি উল্লেখ করেন যে, তার সরকারের লক্ষ্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ‘সনাতন’ সংস্কৃতির প্রতিফলন থাকতে হবে।
বাম দলগুলোর সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী তাদের নেতাদের ‘লাল বাবু’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ