প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্তমান ব্যস্ত পৃথিবীতে, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতি মানুষের মনোযোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সাময়িক ছুটি কাটানোর জন্য নয়, এবার দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি মুহূর্তকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ও আনন্দময় করে তুলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গড়ে উঠছে এক অনন্য দ্বীপ। এই দ্বীপটির নাম ‘ফাহিদ আইল্যান্ড’, যেখানে সম্পূর্ণ সুস্থতা ও ভালো থাকার ধারণা নিয়ে একটি আধুনিক আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পটি মানুষের জীবনযাত্রার ধারণাই বদলে দিতে সক্ষম হবে।
আবুধাবি সরকারের মালিকানাধীন রিয়েল এস্টেট কোম্পানি আলদার ডেভেলপমেন্টের অধীনে ৪০ বিলিয়ন আমিরাতি দিরহাম বা প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যয়ে একটি বিশাল প্রকল্প গড়ে উঠছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্মাণ করা হচ্ছে এই ফাহিদ দ্বীপ, যেখানে প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি বাড়ি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে চালু করা। ২.৭ মিলিয়ন বর্গমিটার বিস্তৃত এই দ্বীপে থাকবে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং তিনটি প্রধান আবাসিক এলাকা। এই আবাসিক এলাকাগুলোতে থাকবে সাধারণ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শুরু করে অতি-বিলাসবহুল ভিলা। প্রকল্পের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর দাম ১৯ লাখ দিরহাম থেকে শুরু হয়ে বিলাসবহুল বাড়ির ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ দিরহাম পর্যন্ত যেতে পারে।
আলদার ডেভেলপমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমা ম্যাকক্রিরি ব্রিন জানান, এই প্রকল্পের প্রত্যেকটি নকশা ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। সুস্বাস্থ্যের মূল ভিত্তি হলো চারপাশের অনুকূল পরিবেশ। আর তাই ফাহিদ দ্বীপের বুক চিরে তৈরি হচ্ছে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ‘বার্ম পার্ক’। এটি হবে একটি সবুজ বাফার জোন, রানিং ট্র্যাক এবং তিনটি সাইক্লিং রুট। পুরো দ্বীপজুড়ে থাকবে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুসংযুক্ত হাঁটার পথ, যার ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ থাকবে ছায়াবৃত। এর ফলে তীব্র গরমের মধ্যেও বাসিন্দারা সহজেই হেঁটে চলাফেরা করতে পারবেন।
বাসিন্দাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরে এখানে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘কিংস কলেজ স্কুল উইম্বলডন’-এর একটি শাখা চালু হবে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র এবং জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উদ্ভাবিত ‘ফিটওয়েল’ স্বাস্থ্যকর বিল্ডিং সনদে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বের প্রথম স্কুল। শুধু স্কুলই নয়, ফাহিদ আইল্যান্ড প্রকল্প হিসেবে পৃথিবীর এই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সূচকে সর্বোচ্চ থ্রি-স্টার রেটিং পেয়েছে, যা একটি বিশ্ব রেকর্ড।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার নামে কেবল একটি ভবনে জিম বা স্পা তৈরি করে সেটিকে ‘ওয়েলনেস’ নাম দেওয়ার যে বাণিজ্যিক প্রবণতা রয়েছে, তার বিষয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন এমা ম্যাকক্রিরি ব্রিন। তিনি বলছেন, সুস্থতা মানে কেবল ব্যায়ামাগার নয়; এটি এমন পরিবেশ তৈরি করা, যা মানুষকে প্রতিদিন সচেতনভাবে স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত নিতে উদ্দীপনা জোগাবে। ফাহিদ আইল্যান্ড মূলত সেই লক্ষ্যেই একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই জীবনযাত্রার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে যাচ্ছ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন