শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫১ পি.এম
সমুদ্রসৈকত সাধারণত খোলা আকাশ, নীল জল এবং মুক্ত পরিবেশের প্রতীক। কিন্তু ইতালির ইউরোপীয় অঞ্চলে একটি সৈকত রয়েছে, যেখানে পুরুষ এবং নারীদের জন্য আলাদা আলাদা অংশ রয়েছে। এই সৈকতের বিশেষত্ব হলো সমুদ্র এবং বালুকাবেলার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ১০ ফুট উঁচু সাদা দেয়াল।
ত্রিয়েস্তের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই সৈকতের নাম ‘লা ল্যানতার্না’, যা স্থানীয়দের কাছে ‘এল পেদোচিন’ নামে পরিচিত। শতাধিক বছর ধরে এই লিঙ্গ-পৃথক সৈকতটি তার ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রেখেছে।
সৈকতে প্রবেশ করার পর, একটি করিডর পেরোলেই দেখা যায় নারী ও পুরুষদের জন্য দুটি আলাদা অংশ। নারীদের অংশে বিভিন্ন বয়সের নারীকে বই পড়তে, সন্তানদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে অথবা রোদ পোহাতে দেখা যায়। শহরের কেন্দ্রের নিকট অবস্থিত হওয়ায় কর্মজীবী অনেক নারী দুপুরের বিরতিতে এখানে এসে সাঁতার কাটেন।
অন্যদিকে, দেয়ালের ওপাশে পুরুষদের অংশে আড্ডা, তাস খেলা এবং বিশ্রাম নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। বন্দরকর্মীদেরও কাজের ফাঁকে এখানে সময় কাটাতে দেখা যায়। তবে সাগরের পানিতে গিয়ে এই বিভাজন আর থাকে না। তীর থেকে কিছুটা দূরে সাঁতরে গেলেই নারী ও পুরুষের দেখা হওয়ার সুযোগ থাকে।
বাইরের পর্যটকদের কাছে এই ব্যবস্থা কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। এমনকি মিলান থেকে আসা এক পর্যটক দম্পতি একবার এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থ ফেরত চেয়েছিলেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৃষ্টিতে এই দেয়াল কোনো বাধা নয়; বরং এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতীক।
নারী দর্শনার্থীদের অনেকের মতে, পুরুষের দৃষ্টি বা সামাজিক বিচার-বিশ্লেষণের চাপ ছাড়াই এখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন। শরীর নিয়ে অস্বস্তি বা সাজগোজের চাপ ছাড়াই তারা নিজেদের মতো করে সৈকত উপভোগ করেন। স্থানীয় লেখক নিকোল ব্রুসাফেরোর ভাষায়, এটি বৈষম্যের জায়গা নয়, বরং নারীদের জন্য একটি স্বাধীন পরিসর।
ইতিহাস বলছে, ১৯০৩ সালের দিকে সৈকতটি চালু হয়। সে সময় ত্রিয়েস্তে ছিল অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের অধীনে। তৎকালীন অস্ট্রীয় আইনে জনসম্মুখে শালীনতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেত। সেই সময় থেকেই সৈকতে বিভাজনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
‘পেদোচিন’ শব্দের অর্থ ‘উকুন’। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, একসময় অস্ট্রীয় সৈন্যরা এই এলাকায় এসে ঘোড়ার গায়ের পোকামাকড় পরিষ্কার করতেন। পরে ১৯৫৮ সালে নারীদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় তাদের অংশ সম্প্রসারণ করে দেয়ালটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, তৎকালীন ত্রিয়েস্তেতে নারীদের শিক্ষা ও স্বাধীনতার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। ফলে সময়ের সঙ্গে এই সৈকত নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের একটি প্রতীক হিসেবেও পরিচিতি পায়।
বর্তমানে ইতালির অধিকাংশ সৈকত যেখানে পর্যটকদের ভিড় ও কোলাহলে মুখর, সেখানে এল পেদোচিনে রয়েছে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ। সৈকতের পাশে থাকা ছোট বারে বসে কফি পান অথবা স্থানীয়দের সঙ্গে গল্প করার সুযোগও রয়েছে।
সৈকতের ঐতিহ্যবাহী দেয়ালটি সরিয়ে ফেলার দাবি নিয়ে মাঝে মাঝে আলোচনা হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশ এর পক্ষে নন। তাদের কাছে শত বছরের এই ব্যবস্থা ত্রিয়েস্তের নিজস্ব ঐতিহ্যের অংশ।
আধুনিকতার যুগেও নারী-পুরুষের জন্য আলাদা পরিসর ধরে রাখা এই সৈকত তাই শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং ত্রিয়েস্তের ইতিহাস, সামাজিক সংস্কৃতি ও স্থানীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।
সূত্র: সিএনএন, দ্য আই নিউজপেপার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েল পূর্ব থেকেই জানত। তবে গাজায় নিজেদের সামরিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলার সুযোগ তৈরি করেছে।
লন্ডনের ‘এলবিসি’ (LBC) রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হান্টার বাইডেন উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হামাসের আক্রমণের পরিকল্পনা সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি এই হামলা প্রতিরোধের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তিনি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎসের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নেতা ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুকে গাজায় হামাস প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের পরিকল্পনা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
নেতানিয়াহু এই প্রতিবেদনের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন এবং ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
হান্টার বাইডেনের বক্তব্য অনুযায়ী, "ইসরায়েল জানত কী হতে যাচ্ছে। তারা হামলাটি হতে দিয়েছে যাতে এমন একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, যার অনুমতি অন্য সাধারণ পরিস্থিতিতে কেউ কখনোই দিত না।"
তিনি হামাসকে 'ভয়াবহ' সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, গাজায় ইসরায়েলের পরিচালিত যুদ্ধের প্রকৃতি বর্ণনা করা বেশ কঠিন, তবে এটি 'গণহত্যার শামিল' (akin to genocide) হতে পারে।
ইসরায়েল শুরু থেকেই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, তারা বেসামরিক প্রাণহানি কমানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং হামাস সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল ও মসজিদ থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইডেনের নোবেল ফাউন্ডেশন ৯ শতাংশ বৃদ্ধি করে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ঘোষণা করেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এই সংস্থাটি জানায়, চলতি বছর থেকে ছয়টি ক্যাটাগরির বিজয়ীদের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন বা ১২ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা) প্রদান করা হবে।
নোবেল ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হানা স্তিয়ার্নের একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, "পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা নোবেল পুরস্কারের দীর্ঘমেয়াদি তাৎপর্যকে সমুন্নত রাখছি।" তিনি আরও বলেন, "একইসঙ্গে আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই, যাতে সময়ের পরিক্রমায় পুরস্কারের আর্থিক মূল্যমান অক্ষুণ্ণ থাকে।"
এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম আগামী ৫ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে চিকিৎসাশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতি—এই ছয় ক্যাটাগরিতে ঘোষণা করা হবে।
এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ১২৫তম বার্ষিকী উদযাপন হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, সুইডিশ ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের উইলে প্রতিষ্ঠিত হয় নোবেল পুরস্কার। ১৯ শতকের এই ব্যবসায়ী ডিনামাইটের আবিষ্কারক। নোবেল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০১ সালে প্রথমবার পুরস্কার দেওয়ার সময় প্রতিটি বিভাগের অর্থমূল্য ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৮২ ক্রোনা (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন, সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া চলছে একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে। তিনি বলেন, "দীর্ঘদিনের ঝট, দীর্ঘদিনের ঝামেলা, দীর্ঘদিনের কচুরিপানা, বর্জ্য একটা লংমার্চ, লংড্রাইভ, রোডমার্চ করলে সব সাথে সাথে শেষ হয়ে যাবে?" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলের উচিত ছিল সরকারকে সহযোগিতা করা। তিনি প্রশ্ন করেন, "পার্লামেন্টে সুন্দর সুন্দর কথা বলে, আর বাইরে এসে লংমার্চ করে। এটা কি সহযোগিতা হলো?" তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারকে এত বেশি চাপে রাখা হচ্ছে যে, সরকার স্বাভাবিক কাজ করার সুযোগও পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদ নতুনভাবে আসতে চাইছে, এবং জামায়াত ও বিরোধী দলকে এ সুযোগ তৈরি করার জন্য দায়ী করেছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
এ্যানি বলেন, "যারা আজকে লংমার্চ করে, কি প্রয়োজন ছয় মাসের মাথায় লংমার্চ করতে হবে?" তিনি উল্লেখ করেন যে, এতদিন ধরে বলা হয়েছে, "আমরা আর লংমার্চ করবো না, এটা ভূল হয়েছে, এটা ঠিক হয় নি।" বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বিএনপিকে দায়ী না করে তিনি বলেন, "এটা আমাদের সৃষ্ট না, আগের থেকে সৃষ্ট।" তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন যে, বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন সম্ভব নয়। গ্যাস সরবরাহের জন্যও সময় প্রয়োজন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ভোটের সময় তাদের মায়েদের কাছে গিয়েছিল, কিন্তু যুব প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, "ঘরে গিয়ে পান-সাদা খাওয়ায় বলছে বেহেস্তে দিব, জান্নাত দিব। আবার হাতের ভিতর একটা জিনিস ঢুকাই দিছে।" তিনি দাবি করেন, এটি ভোটের শেষ এক সপ্তাহে বেশি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের জন্য তারা সতর্ক।
তিনি বলেন, "আমরা কাজ শুরু করেছি মাত্র ছয় মাস হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ছয় মাসের আগে ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট শাসনের অত্যাচার, নির্যাতন, গুম-খুন, লুটপাট, দুবৃত্তায়ন এবং দুর্নীতি চলেছে। তিনি বলেন, "এখন বলে ডিসেম্বর আসবে। এগুলো হলো মোবাইলে।" তিনি অভিযোগ করেন, মোবাইলে এসব তথ্য আসার সুযোগ বট বাহিনী করে দিয়েছে।
পৌর বিএনপির আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাকছুদুর রহমান আলমগীর, জেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল আলীম হুমায়ুন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ