প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের অন্যতম প্রাচীন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার প্রিন্সিপাল, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও আরবি ভাষাবিশেষজ্ঞ মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্ন ইলাইহি রজিউন। বুধবার (৮ অক্টোবর) ৯২ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।
দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসক ও গবেষক—বিভিন্ন ভূমিকায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই বরেণ্য আলেম।
নাদওয়াতুল উলামার পাশাপাশি, লখনৌর ইন্টিগ্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে একজন এবং প্রথম চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আরবি সাহিত্যে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।
১৯৩৪ সালে ভারতের মৌতে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি। উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৫২ সালে লখনৌর দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন। প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর সেখানেই শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে আরবি বিভাগের প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরবি ভাষা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। নাদওয়াতুল উলামা থেকে প্রকাশিত আরবি মাসিক ‘আল-বাসুল ইসলামি’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৭৯ সাল থেকে পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তা ছাড়া ‘আর-রায়িদ’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে দীর্ঘ সময় যুক্ত ছিলেন তিনি।
শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি। ২০১৩ সালে নিউ দিল্লির ইনস্টিটিউট অব অবজেক্টিভ স্টাডিজ তাকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। ২০১৯ সালে লখনৌর খাজা মইনুদ্দিন চিশতি ল্যাঙ্গুয়েজ ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি সম্মানসূচক ডকটর অব লেটার্স (ডি. লিট) ডিগ্রি লাভ করেন।
ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদের ধর্মীয় আইন নিয়ে কাজ করা প্রাচীনত সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন ছিলেন সাঈদুর রহমান আজমি নদভি। তিনি এই সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমী নাদভী ছিলেন একজন বহুমাত্রিক লেখক। আরবি ও উর্দু ভাষায় তিনি বহু গ্রন্থ ও গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে— আরবি শব্দরূপতত্ত্ব বা সরফ বিষয়ে লেখা ‘ইলমুত তাসরিফ’, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ নিয়ে গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘উসওয়ায়ে হাসানা কে আইনে মে’, ইসলামী সংস্কৃতি ও নাদওয়াতুল উলামার অবদান নিয়ে লেখা গ্রন্থ ‘ইসলামী সাকাফাত আওর নাদওয়াতুল উলামা’, ইসলাম ও পাশ্চাত্য নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ ‘ইসলাম আওর মাগরিব’ এবং জীবনীমূলক স্মারকগ্রন্থ ‘তাজকেরা মাওলানা হাকিম আজিজুর রহমান আজমী’।
জ্ঞানচর্চা, ইসলামী শিক্ষা, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায় দীর্ঘ কর্মজীবনে মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি যে অবদান রেখে গেছেন, তা ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন