ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: প্যারিসে আগুন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ


ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: প্যারিসে আগুন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা, জীর্ণ ভবন এবং গুরুতর শিক্ষক সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হয়েছে, তা এখন তীব্র হিংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে। রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী নেমে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজপথে মোতায়েন করা হয়েছে দাঙ্গা পুলিশ। সংঘর্ষের ফলে দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

প্যারিস ও পঁতাঁ (Pantin) শহরের সড়কগুলোতে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড তৈরি করে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ময়লার আবর্জনা ফেলার বিনগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জের ব্যবহার করেছে। ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান এই সহিংসতার ফলে অন্তত ৬৫ জন স্কুলকর্মী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্যারিসে আন্দোলনটি শুরু হলেও তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, শ্রেণীকক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে শিক্ষা পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন: গুয়াতেমালায় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে দুর্নীতিবিরোধী সাবেক কৌঁসুলিকে হত্যা

এক বিবৃতিতে ১৬ বছর বয়সী এক ফরাসি শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে জানিয়েছেন, "আমরা চরম ক্ষুব্ধ। ফ্রান্সে স্কুলের পরিবেশ পরিবর্তন করতে হলে এখন জোরালো আওয়াজ তোলা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।"

অন্যদিকে, পরিস্থিতির জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, "শিক্ষার্থীদের সাধারণ বিক্ষোভ এখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ও বিশৃঙ্খলায় রূপ নিয়েছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে অভিযান, দক্ষিণাঞ্চলে ইমনের ঘোরাঘুরি! সেভেন স্টার পরিচয়ে ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


মিরপুরে অভিযান, দক্ষিণাঞ্চলে ইমনের ঘোরাঘুরি! সেভেন স্টার পরিচয়ে ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

ঢাকার মিরপুরের সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিত ইমন রহমান বর্তমানে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করে চলছেন, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তালাশ বিডির অনুসন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দা, কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ইমন রহমান নিজেকে মিরপুরের সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে ভয়ভীতি ও গুরুতর হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় কয়েকজন আরও অভিযোগ করেছেন, ইমন রহমান মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও বিভিন্নভাবে শেল্টার দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি হোটেলকেন্দ্রিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রমে সহযোগিতা বা শেল্টার দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, তারা ইমন রহমানকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাতে দেখেছেন। তাদের দাবি, অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে স্থানীয় সূত্র

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, প্রশাসনের নজর এড়াতে ইমন রহমান এক জায়গায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন না। কখনো ভোলা, কখনো বরিশাল আবার কখনো ঝালকাঠিতে অবস্থান পরিবর্তন করে চলাফেরা করছেন বলে তারা জানিয়েছেন। তার বাড়ি ভোলায় বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও যাচাই

তালাশ বিডির অনুসন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগগুলোর সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের বক্তব্য ও নথি সংগ্রহের চেষ্টা করছে তালাশ বিডি। একই সঙ্গে মিরপুরের সেভেন স্টার গ্রুপের সঙ্গে ইমন রহমানের বর্তমান সম্পৃক্ততা এবং বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠিতে তার কথিত কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ইমন রহমানের বক্তব্য

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা ইমন রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

তালাশ বিডির অনুসন্ধান

মিরপুরের সেভেন স্টার গ্রুপের সঙ্গে ইমন রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলে তার চলাফেরা, চাঁদাবাজি, মাদক সংশ্লিষ্টতা, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তালাশ বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগগুলোর পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী, ইমন রহমানের বর্তমান অবস্থান কোথায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে তার বিষয়ে কী তথ্য রয়েছে, এসব বিষয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে তালাশ বিডি।

বিস্তারিত অনুসন্ধানী সংবাদ জানতে সঙ্গে থাকুন তালাশ বিডির।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরোবির রিআর্থ ক্লাবের নেতৃত্বে আল শাহারিয়া ও হাফিজ আল হিমু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোহেল,বেরোবি প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৫ পি.এম


বেরোবির রিআর্থ ক্লাবের নেতৃত্বে আল শাহারিয়া ও হাফিজ আল হিমু

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠন রিআর্থ ক্লাব, বেরোবি-এর ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

২ অক্টোবর ঘোষিত ৩৮ সদস্যের নতুন কমিটিতে আল শাহারিয়া সভাপতি, হাফিজ আল হিমু সম্পাদক এবং প্রতীক গোলদার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

নতুন কমিটিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ডকুমেন্টেশন, যোগাযোগ ও প্রচার, অর্থ ও প্রশাসন, স্টাডি সার্কেল এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। কমিটির মেয়াদ অক্টোবর ২০২৬ থেকে মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত ছয় মাস।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, পূর্বের সক্রিয়তা, অংশগ্রহণ, অবদান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বিবেচনার পাশাপাশি প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে নতুন কমিটি নির্বাচন করা হয়েছে।

নবনির্বাচিত সভাপতি আল শাহারিয়া বলেন, “আমরা শুরু থেকেই পরিবেশ ও সমাজের নানা প্রশ্নকে তরুণদের চিন্তা, আলোচনা ও অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করে আসছি। নতুন কমিটির মাধ্যমে আমরা এই কাজকে আরও সংগঠিত ও বিস্তৃত করতে চাই। পরিবেশ, জলবায়ু ও সামাজিক ইস্যুতে শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের বোঝাপড়া, চিন্তাশীলতা ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”

সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল হিমু বলেন, “সাধারন সম্পাদক হিসেবে আমার লক্ষ্য থাকবে এই যাত্রাকে আরও কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক করা এবং আমাদের কাজের মাধ্যমে সমাজ ও পরিবেশবিষয়ক চিন্তার জগৎকে আরও শানিত করা।”

কমিটিতে তীর্থাঙ্কর রায় সহসভাপতি, আদিয়াত খান সাংগঠনিক সম্পাদক, পায়েল আহমেদ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, নীলাদ্র মোহাইমিন ডকুমেন্টেশন লিড, আল তাবাসসুম শুভা এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কমিউনিকেশনস সম্পাদক, জান্নাতুল মাওয়া ফাইজা প্রচার সম্পাদক, নাফসে জাকিয়া নাবিলা কোষাধ্যক্ষ এবং নিলয় দাস প্রশাসনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

নতুন কমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় রিআর্থ ক্লাব, বেরোবি-এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি পরিবেশ, জলবায়ু, দুর্যোগ ঝুঁকি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির উপদেষ্টারা।

রিআর্থ ক্লাব, বেরোবি তরুণদের নেতৃত্বে পরিবেশ ও সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করা একটি যুব সংগঠন। সংগঠনটির স্লোগান— “ন্যায়, সহনশীলতা ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য তরুণদের নেতৃ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ পদায়নে বারবার নাটকীয়তা, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৮ পি.এম


পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ পদায়নে বারবার নাটকীয়তা, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত

নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ পদায়ন নিয়ে আবারও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলী নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র একদিন পরই, ১ অক্টোবর তাঁর বদলি ও পদায়নের আদেশ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে পদায়ন বাতিলের কারণ হিসেবে শুধু ‘প্রশাসনিক কারণে’ উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর পূর্বধলা সরকারি কলেজকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—একজন কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করার পর তিনি মাউশিতে যোগদান করলেন, কলেজে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বও নিলেন; তাহলে মাত্র একদিন পরই কেন তাঁর পদায়ন বাতিল হলো?

দীর্ঘ আট বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে রতন

পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ৮ আগস্ট ২০১৮ কলেজটি জাতীয়করণ হয়ে পূর্বধলা সরকারি কলেজে রূপ নেয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতীয়করণের পর ১০ আগস্ট ২০১৮ থেকে কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ফলে প্রায় আট বছর পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ ছাড়াই কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

২০২৫ সালে বাহারুল ইসলামের ঘটনাও আলোচনায়

এর আগে ১৫ এপ্রিল ২০২৫ আনন্দমোহন সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. বাহারুল ইসলামকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছিল।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওইদিন সকালে তিনি পূর্বধলা সরকারি কলেজে এসে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। পরে একই দিন দুপুরে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেটি ছিল তাঁর চাকরিজীবনের শেষ দিন এবং প্রায় তিন ঘণ্টা পূর্বধলা সরকারি কলেজে অবস্থানের পর তিনি অবসরে চলে যান।

ফলে অধ্যাপক বাহারুল ইসলামের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

২০২৬ সালে আবার নতুন অধ্যক্ষ

দীর্ঘ বিরতির পর ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) যোগদান করেন।

এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, বেলা আড়াইটার দিকে পূর্বধলা সরকারি কলেজে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক আকবর আলী। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে তিনি শিক্ষক-কর্মচারী, সাংবাদিক ও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময় করেন।

তবে এই দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই ঘটে নতুন মোড়।

একদিন পরই পদায়ন বাতিল

১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি ও পদায়নের আদেশের সংশ্লিষ্ট অংশ ‘প্রশাসনিক কারণে’ বাতিল করা হয়।

তবে প্রজ্ঞাপনে ‘প্রশাসনিক কারণ’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন

আকবর আলীর পদায়ন বাতিলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা আনোয়ারুল হক রতনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আবার কেউ কেউ অধ্যাপক আকবর আলীর অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে তাঁকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি বা যাচাইযোগ্য সূত্র পাওয়া না গেলে তা সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না। একইভাবে আকবর আলীর পদায়ন বাতিলের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কোনো ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক ভূমিকা ছিল—এমন দাবিরও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তাহলে ‘প্রশাসনিক কারণ’ কী?

এখন মূল প্রশ্ন—ঠিক কী কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়া একজন অধ্যক্ষের পদায়ন ১ অক্টোবর বাতিল করা হলো?

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এর উত্তর হিসেবে শুধু ‘প্রশাসনিক কারণে’ বলা হয়েছে। বিস্তারিত কারণ প্রকাশ না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হলেও সেগুলোকে এখনই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি পরিষ্কার করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

একই কলেজে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল অধ্যাপক বাহারুল ইসলামের স্বল্পস্থায়ী পদায়ন এবং ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আকবর আলীর দায়িত্ব গ্রহণের পর ১ অক্টোবর পদায়ন বাতিল—দুটি ঘটনাই পূর্বধলা সরকারি কলেজের প্রশাসনিক নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—গুঞ্জন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করবে এবং পূর্বধলা সরকারি কলেজের প্রশাসনিক নেতৃত্ব নিয়ে একটি স্থায়ী ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরসিংদীতে আধিপত্য সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত, আহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ পি.এম


নরসিংদীতে আধিপত্য সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত, আহত ২

নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বাবু ওরফে আব্দুল্লাহ (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সংঘর্ষে নিহতের ভাইসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নরসিংদী শহরের চৌয়ালা এলাকার লোকমান হোসেন পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।

নিহত বাবু ওরফে আব্দুল্লাহ এবং আহত তার ভাই রুবেল (৩০) উভয়েই চৌয়ালা এলাকার আবদুল কাদেরের সন্তান। আহত অপর ব্যক্তি মিরাজ (২০) একই এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে, যিনি প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্য।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চৌয়ালা এলাকায় হেলাল ও আবু লাল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের কারণে বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি দুই পক্ষের বিরোধের জেরে কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটে। গত বুধবার আবু লাল গ্রুপের সদস্যরা হেলাল গ্রুপের শফিকুল নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাবুসহ কয়েকজন আহত শফিকুলকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এর ফলস্বরূপ শুক্রবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় গুলিতে বাবু গুরুতর আহত হন। পাশাপাশি মিরাজ এবং বাবুর ভাই রুবেলও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক বাবু ওরফে আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রুবেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, এবং মিরাজকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের ভাই রুবেল অভিযোগ করেন, এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই আবু লাল ও হেলাল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে আবু লাল ২০ থেকে ২৫ জন লোক নিয়ে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করেন। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, আহত মিরাজ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিকেলে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে এলাকায় ঘুরছিলেন। এ সময় বাবু এসে তার হাতে কোপ দেন। পরে ব্যথায় মাটিতে পড়ে গেলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাবুর সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খায়রুল ইসলাম জানান, তিনজনকে হাসপাতালে আনা হলে বাবু ওরফে আব্দুল্লাহকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মিরাজকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং রুবেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিহত বাবুর বুকে ও হাতে ক্ষতের চিহ্ন ছিল। মিরাজের দুই হাতসহ শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন। আহত মিরাজকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত বাবুর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%