বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:০৩ পি.এম
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি মন্তব্য করেছেন যে, ধর্ম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ম একটি বিষয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনা একটি ভিন্ন বিষয়। তিনি বলেন, "ধর্ম ব্যবসা দিয়ে রাষ্ট্র চলে না।"
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল-পিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, "যদি ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হতো, তাহলে পাকিস্তানই টিকে থাকত।" তিনি উল্লেখ করেন, "পৃথিবীর কোনো দেশে শুধু ধর্ম দিয়ে দেশ টিকে থাকে না।" তিনি বলেন, একটি দেশের জাতীয়তাবাদী চেতনা তৈরি হয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ভৌগোলিক সীমানাসহ বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে।
তিনি বলেন, "কোনো ব্যক্তি বা নেতার হাত শক্তিশালী করলেই দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট থাকে না।" তিনি জনগণের হাত শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গয়েশ্বর বলেন, "জনগণ যত শক্তিশালী হবে, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা তত সহজ হবে।"
তিনি আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও সবসময় জনগণকে মাঠে নামাতে পারেনি। তবে জনগণ মাঠে নামার পর আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাজ হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের শক্তিশালী করা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "জামায়াতকেও সে সময়ের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়নি।"
তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট ভেঙে যায়নি, বরং কৌশলগত কারণে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিজস্ব অবস্থান থাকলেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ক্ষেত্রে তারা অভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিল।
এ সময় গয়েশ্বর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, "তিনি ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করলে তা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।"
গয়েশ্বর বলেন, "আমরা চাই, শেখ হাসিনা দেশে আসুক, এসে বিচারের মুখোমুখি হোক।" তিনি বলেন, "বিচারের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুক।" তিনি আরও বলেন, "আর যদি নির্দোষ প্রমাণিত না হন, আদালত যে রায় দেবে তা মেনে নিতে হবে।"
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে তিনি সতর্ক করেন, "বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।"
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, দেশের জনগণও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসবে।"
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, "রাজনীতি কোনো লাভ-লোকসানের হিসাব নয়।" তিনি বলেন, "রাজনীতি সর্বোচ্চ ত্যাগের জায়গা।" তিনি বলেন, "নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব করে রাজনীতি করা উচিত নয়।"
দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, "তাদের আদর্শ ধারণ করতে হলে কৃত্রিমতা নয়, আন্তরিকতা প্রয়োজন।" তিনি বলেন, জনগণ যেন আস্থা রাখতে পারে যে, তাদের দেখানো পথেই পরবর্তী নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা করছে।
দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। গয়েশ্বর বলেন, "দেশের অর্থনীতির অবস্থা সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, "অর্থপাচারের কারণে ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়েছে।"
তিনি বলেন, "ব্যাংকের টাকা সরকারের নয়, জনগণের।" তিনি বলেন, "অথচ অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক টাকা তুলতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।" তিনি বলেন, "জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।"
পিএনপি চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ফিরোজ মোহাম্মদ লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবেদিন ফারুক এমপি, পিএনপির মহাসচিব আহমেদুর রহমান, ইসলামী ঐক্য ফোরামের আবদুল করিমসহ দল প ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার সাঁথিয়া এলাকায় ভিমরুলের কামড়ে দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে উপজেলার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গয়েশবাড়ি গ্রামের নয়ন হোসেনের ছেলে রোহান হোসেন (৩) এবং একই এলাকার সুজন হোসেনের ছেলে আরাফাত হোসেন (৪)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রোহান ও আরাফাত বাড়ির পাশে অবস্থিত বাগানে খেলছিল। এ সময় তারা ভিমরুলের মাটির বাসায় পাট কাঠি দিয়ে আঘাত করে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ ভিমরুল তাদের ওপর আক্রমণ করে। ভিমরুলের আক্রমণে তাদের চিৎকার শুনে পাশের আরেক শিশুর মা তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন, কিন্তু তাকেও ভিমরুল আক্রমণ করে। পরে কোনোমতে শিশুদুটিকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান ওই নারী। তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী দিন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শিশুদুটির মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় আহত ওই নারী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। তবে গেজেট থেকে বাদ পড়েছে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারীসহ ৫৭ জনের নাম। বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
তারা মন্তব্য করেছেন, বিসিএসের মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পিএসসির সুপারিশ পাওয়ার পরও কারও নিয়োগ আটকে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একটি চাকরি শুধুমাত্র একজন তরুণের কর্মসংস্থান নয়, বরং এটি একটি পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এই কারণে সরকারের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত আচরণ এবং মানবিকতা নিশ্চিত করা উচিত।
তারা আরও বলেন, যদি কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী বা আইনত নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িত না হন, তাহলে শুধুমাত্র তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ অথবা পরিবারের কোনো সদস্যের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে চাকরি আটকে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। একজন প্রার্থীর মূল্যায়ন হতে হবে তাঁর নিজস্ব মেধা, যোগ্যতা, সততা এবং ব্যক্তিগত রেকর্ডের ভিত্তিতে, তাঁর বাবা, চাচা বা মামা কোন রাজনৈতিক দল করেন, তার ভিত্তিতে নয়।
নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেছেন, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে মেধাবীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছিল। যারা তখন এর প্রতিবাদ করেছিলেন, ক্ষমতায় এসে তাঁদের আমলে একই ধরনের অভিযোগ তৈরি হলে তা গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ক্ষমতার পরিবর্তনের অর্থ কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের আচরণ ও বঞ্চনার সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হতে হবে।
এবি পার্টির নেতৃদ্বয় ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৭ জনকে (ফৌজদারী অপরাধ জড়িত না থাকলে) গেজেটে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। তাঁরা একই সঙ্গে অস্বচ্ছ ও হয়রানিমূলক ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া থেকে চাকরিপ্রত্যাশীদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, মজলুমের কাতার থেকে ক্ষমতায় এসে যদি একই বঞ্চনার সংস্কৃতি চালু করা হয়, জনগণ তা মেনে নেবে না। ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রের আচরণের পরিবর্তনই জনগণের প্রত্যাশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় পর্যটকদের রাত্রিযাপন ও ভ্রমণের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পর্যটন ব্যবসার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে নতুন নীতিমালায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা, পরিবেশবিদ, পর্যটন ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটরসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তী ব্যবস্থায় নভেম্বর মাসে পর্যটকদের দিনের বেলায় ভ্রমণের সুযোগ রাখা হলেও রাত্রিযাপনের অনুমতি ছিল না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সীমিতসংখ্যক পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারতেন। সরকারি পর্যটন তথ্যেও সেন্টমার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের এই সময়ভিত্তিক ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে।
তবে এ বিধিনিষেধের কারণে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসা ও স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেছেন সেখানকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, পর্যটক কমে যাওয়ায় হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, নৌযান, পর্যটন পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জীবিকার সংকটে কিছু বাসিন্দার মধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহিম জিহাদীর তথ্যমতে, দ্বীপে বর্তমানে প্রায় ১৫০টি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব আবাসন প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটন মৌসুমে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে দ্বীপের অর্থনীতি মূলত পর্যটননির্ভর হয়ে উঠেছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্টমার্টিনে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ এবং সেখান থেকে নৌপথে দ্বীপে যেতে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য সময় লাগে। ফলে কয়েক ঘণ্টার জন্য দ্বীপে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা পর্যটকদের নির উৎসাহিত করছে। সরকারি পর্যটন তথ্যেও টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের নৌযাত্রায় প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগার কথা উল্লেখ রয়েছে।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করে একজন পর্যটক সেন্টমার্টিনে গিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে আসা বাস্তবসম্মত নয়। তাই পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের রাত্রিযাপনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামানও রাত্রিযাপনের বিধিনিষেধে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পর্যটকদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। এতে করে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও কক্সবাজার-টেকনাফের পর্যটনসংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের অনেকে আগের বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণের নামে নেওয়া সিদ্ধান্তে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও পর্যটন ব্যবসার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তারা আগের নীতিমালার কারণে সেন্টমার্টিনের পর্যটন খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তার পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, তার সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে সেন্টমার্টিনসহ কক্সবাজারের পর্যটন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এ বিষয়ে তদন্ত করে দায় নির্ধারণ ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও প্রবালপ্রাচীর রক্ষা করতে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। সরকারি নথিতেও দ্বীপটিকে প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থা ও মাস্টার প্ল্যানের উদ্যোগের কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নীতিমালায় একদিকে পর্যটকের সংখ্যা ও পরিবেশগত চাপ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক ব্যবহার রোধ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে দ্বীপের প্রায় ৮-১০ হাজার বাসিন্দার জীবন-জীবিকা এবং পর্যটননির্ভর অর্থনীতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। সরকারের নতুন নীতিমালায় এই দুই দিকের মধ্যে সমন্বয় কতটা করা যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুর, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলার জলাভূমি, বিল-ঝিল ও নিম্নাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম একটি উপাদান জলজ উদ্ভিদ শাপলা। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই জলজ উদ্ভিদ বর্তমানে শরীয়তপুরে স্থানীয় অর্থনীতির একটি দৃশ্যমান অংশে পরিণত হয়েছে।
বর্ষা আসলেই নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের পানিতে ফুটে থাকা লাল, সাদা ও বেগুনি শাপলা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে আরও মনোরম করে তোলে। তবে কালের বিবর্তনে শাপলা এখন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের অংশ নয়, বরং নদীবেষ্টিত শরীয়তপুরের বহু প্রান্তিক মানুষের কাছে এটি জীবিকা ও আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বনে পরিণত হয়েছে।
বর্ষাকালে শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন বিল, ডোবা, জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রচুর শাপলা জন্মায়। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এসব শাপলা সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছেন নিম্নআয়ের মানুষ। ভোর থেকে নৌকা কিংবা ছোট ছোট জলযানে বিলের পানিতে নেমে শাপলা সংগ্রহ করেন তারা। পরে সেগুলো পরিষ্কার করে মুঠি বা আঁটি বেঁধে বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন নিম্নবিত্তের মানুষ। কারও কাছে এটি পারিবারিক আয়ের সহায়ক, আবার কারও কাছে বর্ষা মৌসুমে প্রধান আয়ের একটি উৎস।
শরীয়তপুরের বিভিন্ন বাজারে গেলে দেখা যায়, অন্যান্য সবজির পাশাপাশি শাপলারও আলাদা বাজার তৈরি হয়েছে। জেলার সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের হাট-বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ শাপলা বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এর একটি অংশ আশপাশের জেলাগুলোর বাজারেও যাচ্ছে।
স্থানীয় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাপলা সাধারণত মুঠি বা আঁটি হিসেবে বিক্রি করা হয়। বাজার, মৌসুম ও প্রকারভেদে শাপলার দাম ওঠানামা করে। ১০ থেকে ১২টি শাপলা নিয়ে একটি মুঠি তৈরি করা হয়। প্রতি মুঠি শাপলা ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দাম বাড়ে এবং কমে। কোনো মূলধন বিনিয়োগ ছাড়াই জলাশয় থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করা যায় বলে দরিদ্র মানুষের কাছে এটি আকর্ষণীয় জীবিকার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শাপলা সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত মানুষের অধিকাংশই নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। তাদের অনেকের নিজস্ব জমি নেই, বড় কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করার সামর্থ্য নেই। বর্ষাকালে যখন অনেক কৃষি শ্রমিকের নিয়মিত কাজ কমে যায়, তখন শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রি তাদের জীবিকার অবলম্বন হয়ে ওঠে। ফলে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানদের লেখাপড়া কিংবা অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় মেটাতে শাপলা বিক্রির অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শাপলা শুধু বিক্রির ক্ষেত্রেই নয়, খাদ্য হিসেবেও গ্রামবাংলায় দীর্ঘদিনের পরিচিত সবজি। শরীয়তপুরের মানুষের খাদ্যতালিকায় শাপলার বিশেষ স্থান রয়েছে। শাপলা ভাজি, শাপলা দিয়ে ডাল, বিভিন্ন মাছের সঙ্গে শাপলার তরকারি এবং ইলিশের সঙ্গে শাপলা রান্না এ অঞ্চলের মানুষের কাছে বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে তাজা শাপলা সহজলভ্য হওয়ায় অনেক পরিবারের খাদ্য তালিকায় শাপলার স্থান বিদ্যমান থাকে।
শরীয়তপুরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য শাপলা উৎপাদন ও সংগ্রহের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক। পদ্মা, মেঘনা, কীর্তিনাশা, জয়ন্তীসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও শাখা-প্রশাখা ঘেরা এ জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল বর্ষাকালে পানিতে প্লাবিত হয়। বিভিন্ন বিল, জলাশয় ও নিচু জমিতে তখন প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় শাপলা। কিছু কিছু এলাকায় পানির বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে শাপলার পাতা ও ফুল দেখা যায়। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহযোগ্য এসব শাপলা অনেক দরিদ্র মানুষের কাছে আয়ের উৎস।
তবে শাপলা সংগ্রহের এ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনও অনেকটাই অনানুষ্ঠানিক। যারা শাপলা সংগ্রহ করেন, তাদের অধিকাংশের কোনো সংগঠিত বাজারব্যবস্থা নেই। তারা সাধারণত স্থানীয় আড়তদার, পাইকার কিংবা খুচরা বিক্রেতার কাছে সরাসরি বিক্রি করেন। ফলে প্রকৃত সংগ্রহকারীরা অনেক সময় বাজারদরের পুরো সুবিধা পান না। পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক বাজারজাত এবং পরিকল্পিতভাবে শাপলা সংগ্রহ করা গেলে এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয়ের আরও কার্যকর উৎস হতে পারে। শাপলা সংগ্রহকারীদের সমবায়ভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা, বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা এবং পাইকারি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। পাশাপাশি শাপলা পরিষ্কার, বাছাই ও পরিবহনের জন্য সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে বাজারমূল্যও বাড়ানো সম্ভব।
জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে শাপলা বিক্রির দৃশ্য এখন বর্ষাকালের পরিচিত চিত্র। মাথায় বা হাতে শাপলার আঁটি নিয়ে বাজারে আসছেন নারী-পুরুষ। কেউ বিল থেকে সংগ্রহ করেছেন, কেউ আবার সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন। ক্রেতারাও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী শাপলা কিনে বাড়ি ফিরছেন। এভাবে শাপলাকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে একটি ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা।
সকালের সূর্য উঠতে না উঠতেই কাক ডাকা ভোরে পানিতে নেমে শাপলা সংগ্রহ থেকে শুরু করে বাজারে নিয়ে আসা, বাছাই করা, আঁটি বাঁধা এবং বিক্রি করা, প্রতিটি ধাপেই শ্রম দিচ্ছেন প্রান্তিক মানুষ। তাদের কাছে শাপলা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সংসারের আয়-রোজগারের একটি বাস্তব মাধ্যম। এ পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের শ্রম।
শাপলা সংগ্রহকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি, তাদের সংগঠিত করা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজারজাতকরণে সহায়তা এবং জলাভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে শাপলা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রমের সম্ভাবনাও যাচাই করা যেতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে টেকসই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর দেওয়া দরকার।
এ প্রসঙ্গে পালং বাজারে শাপলা বিক্রেতা শরীয়তপুর সদর উপজেলার আড়িগাঁও গ্রামের আব্দুল গফুর বলেন, "প্রতিদিন সকালে আমি বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করি। এ দিয়ে সংসারে খরচ মিটিয়ে ভালোভাবেই দিনযাপন করছি। ১০ টাকা মুঠি দরে প্রতিদিন আমি প্রায় ২শ" শাপলা বিক্রি করি।"
শরীয়তপুরের পাশ্ববর্তী মাদারীপুরের গোবিন্দ বালা প্রতিদিন শাপলা নিয়ে শরীয়তপুরে আসেন। তিনি বলেন, "আমি রাজৈর আমগ্রাম বিল থেকে শাপলা নিয়ে শরীয়তপুর আসি। বিক্রি খুব ভালো। প্রতি মোটা শাপলা ২০ টাকা দরে বিক্রি করি।"
এ বিষয়ে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-সহকারী পরিচালক মাসুমা জান্নাত বাসসকে বলেন, "শাপলা এখনো কৃষি পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়। এ সম্পর্কে আমাদের কোন গবেষণা নেই। শরীয়তপুরের বিল, ডোবা, জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রচুর শাপলা জন্মে। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এসব শাপলা সংগ্রহ করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন নিম্নআয়ের মানুষ। তবে আগের তুলনায় এটা এখন বাণিজ্যিক ভাবে বাজারে আসছে। এটা বাণিজ্যিকীকরণের বিষয়টি ভেবে দেখবো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ