ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা, আহত ২


আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা, আহত ২

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি ব্যবসায়ীর বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভাড়াটে ‘হেলমেট বাহিনী’ ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ দুজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের জগন্নাথপট্টি গ্রামে তৈয়ব শরীফের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের মতে, জগন্নাথপট্টি গ্রামের তৈয়ব শরীফের সঙ্গে ভাগ্যকুল মান্দা গ্রামের রশিদ দেওয়ানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে এবং আদালতে মামলা রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রশিদ দেওয়ানের নেতৃত্বে ১৪টি মোটরসাইকেলে চড়ে ২৭-২৮ জনের একটি দল বহিরাগত সন্ত্রাসী এসে তৈয়ব শরীফের বাড়িতে হামলা চালায়।

আরও পড়ুন: কুকি-চিনের নাথান বম আবার আলোচনায়, সিআইডির বিরুদ্ধে মামলা

মাথায় হেলমেট এবং হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তারা দ্রুত বাড়িতে প্রবেশ করে তাণ্ডব শুরু করে। এই আকস্মিক হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো পরিবারের মধ্যে। সন্ত্রাসীদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত হন তৈয়ব শরীফের স্ত্রী হাফেজা সুলতানা (৩৫) এবং তাদের ১৪ বছরের শিশুসন্তান তানিম হোসেন।

ভুক্তভোগী তৈয়ব শরীফ বলেন, "রশিদ দেওয়ানের সঙ্গে জমি নিয়ে আদালতে আমাদের মামলা চলছে। মুন্সিগঞ্জ আদালত ওই জমিতে সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা ও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। কিন্তু আইন ও আদালতের তোয়াক্কা না করে রশিদ দেওয়ান বহিরাগত হেলমেট পরা সন্ত্রাসী বাহিনী ভাড়া করে আনে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার ঘরবাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে এবং আমার স্ত্রী ও অবুঝ ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। বিচার চেয়ে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।"

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীনগর থানার এসআই গণেশ বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আরও পড়ুন: হাতেনাতে মাদকাসক্তকে ধরলেন ইউএনও, ছয় মাসের কারাদণ্ড দিলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মামুনুল হক: বিএনপির সমালোচনা, জনগণের অধিকার রক্ষার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ পি.এম


মামুনুল হক: বিএনপির সমালোচনা, জনগণের অধিকার রক্ষার আহ্বান

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি ‘বেইমানি’ করেছে।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর বিএনপি জনগণের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করছে এবং জনগণের অধিকার ‘পদদলিত’ করছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের প্রশ্নে দলটি নিজেদের অবস্থান থেকে ‘সরে এসেছে’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চের কাচারিপাড়া মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। যে দল গণভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকারব্যবস্থা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নজির তৈরি করেছিল, সেই দলই এখন গণভোটের রায় নিয়ে ‘ছলচাতুরী’ করছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে সরকার গঠন করা হলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় উপেক্ষা করা হচ্ছে। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অসম্মতি জানানোর মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি ‘অবজ্ঞা’ দেখানো হয়েছে।

মামুনুল হক বলেন, আমরা সংবিধান সংশোধন চাই না, আমরা চাই সংবিধান সংস্কার। এমন সংস্কার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা আদালতের সিদ্ধান্তে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সহজে বাতিল হয়ে না যায়।

তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে এমন একটি সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অন্যায়, জুলুম ও বঞ্চনার সুযোগ থাকবে না। দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধানের পদ ও ক্ষমতা পৃথক করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের নিয়োগ ও কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানোর মতো বিষয়গুলোও সংস্কারের অংশ হওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খন্দকার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন আকন্দ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় ভেজাল দুধ তৈরির দুটি কারখানায় অভিযান, জরিমানা এক লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


পাবনায় ভেজাল দুধ তৈরির দুটি কারখানায় অভিযান, জরিমানা এক লাখ টাকা

ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মিশিয়ে এবং জেলি ও ভোজ্যতেল ব্যবহার করে নকল দুধ তৈরির অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এই অভিযানের ফলে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, একটি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে এবং নকল দুধ উৎপাদনের দায়ে একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয় এবং ফরিদপুর উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আজ শনিবার এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফরিদপুর উপজেলায় ভেজাল ও নকল দুধ উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের বিষয়ে গোপন তথ্য পাওয়ার পর কৌশলগতভাবে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিকেল ৩টা থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আড়ালে নজরদারি শুরু করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সন্ধ্যার পর ভেজাল দুধ তৈরির কার্যক্রম শুরু হলে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

অভিযানের প্রথম পর্যায়ে উপজেলার পুরেন্দরপুর উত্তরপাড়া এলাকায় শামীম হোসেনের প্রতিষ্ঠানে দুধে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মেশানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১০০ গ্রাম হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড উদ্ধার করা হয়। ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে দুধে ভেজাল দেওয়ার অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, স্বপ্ন ডেইরি ফার্ম নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে কর্মকর্তারা জেলি ও ভোজ্যতেল ব্যবহার করে নকল দুধ উৎপাদনের চিত্র দেখতে পান। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ছদ্মবেশে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগে কারখানায় প্রবেশ করেন। এ সময় সেখানে জেলি, সয়াবিন তেল ও দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ব্লেন্ড মেশিন পাওয়া যায়।

এই বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। নকল দুধ উৎপাদনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে। অভিযানে জব্দ করা দুই ড্রাম জেলি ও এক ড্রাম পামওয়েল ধ্বংস করা হয়।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুধে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ও জেলি জাতীয় পদার্থের মতো অননুমোদিত উপাদান মেশানো জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুধসহ যেকোনো খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো, নকল পণ্য উৎপাদন কিংবা নিম্নমানের খাদ্য বাজারজাতকরণ দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইনে জরিমানা, প্রতিষ্ঠান সিলগালা সহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বা বাজারজাতকরণের তথ্য পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিকটস্থ কার্যালয় অথবা জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ও স্বার্থ সুরক্ষায় ভেজাল, নকল ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
তথ্যমন্ত্রীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

ভোলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, সেবা ব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


ভোলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, সেবা ব্যাহত

ভোলায় চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবের কারণে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধের খরচ বহন করতে না পারার কারণে অনেক হতদরিদ্র মানুষ চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।

নিজের উদ্যোগ ও অর্থায়নে পরিচালিত এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থেকে ভোলা সদর উপজেলা ও পৌরসভার ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তাদের মতে, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারতেন না, তাদের জন্য এই উদ্যোগ আশার আলো হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ভোলা জেলা শাখা ও মেডিকেল ক্যাম্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘সবার জন্য, সুস্থ জীবন’ প্রতিপাদ্যে গত ১১ সেপ্টেম্বর ভোলা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই কর্মসূচি শুরু হয়।

গাইনি, শিশু ও মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকেরা ক্যাম্পে সেবা প্রদান করেন। পঞ্চম ধাপের শেষ ক্যাম্পটি শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে শেষ হয়। ওই দিন সকাল থেকে ভোলা পৌরসভার দুটি স্থান এবং উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে একযোগে ক্যাম্প পরিচালিত হয়।

চিকিৎসক সংকটের কারণে বাড়ছে বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভরতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা বরিশালে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় দ্বীপজেলার বাসিন্দাদের।

এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভোলা সদর থেকে চরফ্যাশন পর্যন্ত শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি ক্লিনিক গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু জায়গায় রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো আর্থিকভাবে আরও চাপের মধ্যে পড়ছে। সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছেন না।

‘বাড়ির কাছে বড় ডাক্তার ও ওষুধ পেয়েছি’

ভোলা পৌরসভার উকিলপাড়ার শান্ত নীড় মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা দুই সন্তানের মা ময়ফুল ও তার প্রতিবেশী হুমায়রা জানান, তাদের স্বামীরা দিনমজুর। একদিন কাজ না করতে পারলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগলেও অর্থাভাবে ভোলা বা বরিশালে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো সম্ভব হয়নি।

তারা বলেন, ‘মঞ্জু মিয়ার বড় ছেলে আমাদের জন্য বাড়ির কাছে বড় ডাক্তার ও ওষুধ পাঠিয়েছেন শুনে এসেছি। নারী চিকিৎসককে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছি। তিনি ওষুধ লিখে দিয়েছেন। পাশের কক্ষ থেকে বিনামূল্যে ওষুধও পেয়েছি। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। এভাবে নিয়মিত সেবা পেলে আর এত চিন্তা থাকত না।’

শিবপুর ইউনিয়নের ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ রফিউদ্দিন, সামসুল হক ও মোফাজ্জল জানান, বয়সের কারণে তারা নানা রোগে ভুগছেন। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ভোলা শহরে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হয় না। সংসারের সীমিত আয়ে ওষুধ কেনাও কঠিন। বাড়ির পাশে ক্যাম্প হওয়ায় তারা সহজেই সেখানে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক মঞ্জুর আলম ও মো. খাইরুল ইসলাম জানান, ভোলার অনেক বিত্তবান মানুষ অসুস্থ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা কিংবা বিদেশে যান। অথচ সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পেতে সমস্যায় পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে তথ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করেন।

পর্যায়ক্রমে চলবে মেডিকেল ক্যাম্প

ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন ও সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ জানান, দলের চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তাঁর বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর মতোই সাধারণ মানুষের চাহিদা বোঝেন। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সেই জনসম্পৃক্ততারই প্রমাণ।

তারা জানান, এর আগে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক নারী ও অসহায় মানুষ অর্থাভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা থেকে বঞ্চিত হতেন। তথ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় পাঁচ ধাপে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে। শুরুতে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এর চেয়ে বেশি মানুষ সেবা নিয়েছেন।

বিজেপি নেতারা আরও জানান, পর্যায়ক্রমে এ মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভালুকায় বিরুনীয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এমপি বাচ্চুর মতবিনিময় সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


ভালুকায় বিরুনীয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এমপি বাচ্চুর মতবিনিময় সভা

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা,সম্ভাবনা ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ৯টায় উপজেলার বিরুনীয়া বাজারের মহিলা কলেজ রোড ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।

এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলজার হোসেন ও উসমান গণি মাখনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি,যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল,শ্রমিক দল,কৃষক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভায় অংশ নেন।সভায় বিরুনীয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাজারের সার্বিক উন্নয়ন,ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর কার্যকর সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ সময় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ,বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নিরাপদ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

সভায় ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বিরুনীয়া বাজারের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%