বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫০ পি.এম
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভের পেছনে আন্তর্জাতিক বামপন্থী নেটওয়ার্কের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনে ফ্রান্স ও ভারতের বিক্ষোভের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আমেরিকান ব্যবসায়ী নেভিল রয় সিংহাম ও ভারতীয় মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী বিজয় প্রসাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভে তাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকার অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কমিউনিস্ট, সমাজতান্ত্রিক ও ইসলামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের প্রচার ও বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এই নেটওয়ার্কের তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই নেটওয়ার্ক ভারতে ছাত্রবিক্ষোভেও সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিক্ষোভকে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শিক লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের কারণ ও প্রেক্ষাপট এক নয়। বিক্ষোভগুলোর মধ্যে সমন্বিত কোনো আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।
প্রতিবেদনটিতে নেভিল রয় সিংহামের অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সিংহাম বর্তমানে চীনের সাংহাইয়ে বসবাস করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের বামপন্থী সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমকে অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল, সিংহামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছে। এসব অর্থের একটি অংশ বামপন্থী সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে ফক্স নিউজও সিংহামের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বিজয় প্রসাদকেও সিংহামের ভারতীয় সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্রসাদ একজন মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও পুঁজিবাদের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর নেত্রী বৃন্দা কারাতের ভাতিজা।
তবে সিংহাম ও প্রসাদ ভারতের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সংগঠিত বা পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনায় ভারতের বিক্ষোভের সঙ্গে বিদেশি পক্ষের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এক টেলিভিশন আলোচনায় ভারতের কয়েকটি বিক্ষোভের পেছনে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ভূমিকা থাকতে পারে বলে প্রশ্ন তোলা হয়। আলোচনায় বলা হয়, মিসরের জেসমিন বিপ্লব এবং শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের বিভিন্ন আন্দোলনের ক্ষেত্রেও বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অতীতে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির পক্ষ থেকেও বিভিন্ন আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত তৎপরতার ভূমিকা থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ভারতের গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগও ওই আলোচনায় উঠে আসে। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, দেশে ভোট চুরি হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি নির্বাচনে ব্যালট পেপার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এর জবাবে বিজেপির এক নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে রাজনৈতিক বয়ান হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপির জয় এবং ২০২৪ সালে আসনসংখ্যা কমে যাওয়ার পরও এনডিএ সরকারের ক্ষমতায় থাকা বিরোধীদের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে।
বিজেপি নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো সেসব নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছে। তার অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও উপদেষ্টা ‘ভোট চুরি’র বয়ান সামনে এনেছেন। তবে নির্বাচন নিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ এবং তার জবাবে বিজেপির বক্তব্য—দুটিই রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অবস্থান। এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন, অভিযোগ ও প্রমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া সাংবাদিক গৌরব সাওয়ান্ত বলেন, বিভিন্ন দেশের বিক্ষোভের মধ্যে যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তদন্তের বিষয়। তার মতে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন বেআইনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের বিক্ষোভের পেছনে একই ধরনের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অসন্তোষ কাজ করছে কি না, কিংবা কোথাও সমন্বিত সাংগঠনিক তৎপরতা রয়েছে কি না—তা বুঝতে প্রতিটি আন্দোলনের নিজস্ব প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে দায়ী করার আগে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও যথাযথ তদন্তের প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মহারাষ্ট্রের কোনকানকাদা পাহাড় থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন গুজরাটের এক যুবক। মৃত্যুর পূর্বে তিনি ১৩ মিনিটের একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। ভিডিওতে সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বৈবাহিক বিরোধ এবং আইনি লড়াই নিয়ে গভীর হতাশার কথা জানান যুবকটি।
নিহত যুবকের নাম বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল। তিনি গুজরাটের ভাবনগরের বাসিন্দা এবং ডাক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। কোনকানকাদা পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফুট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন বিশ্বরাজসিংহ। কিন্তু আট মাসের মধ্যে তাদের সংসার ভেঙে যায়। গত ১২ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ৯ অক্টোবর আদালতে হাজিরাও দিয়েছিলেন তিনি।
মৃত্যুর পূর্বে ধারণ করা ভিডিওতে বিশ্বরাজসিংহ দাবি করেন, স্ত্রীর সঙ্গে সাধারণ মতবিরোধকে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে রূপ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার, তার মা এবং ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ আমি খাদে লাফিয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। আপনারা হয়তো ভাবছেন, কী এমন ঘটল? যখন জীবনে আর কিছু বা কোনো আশাই অবশিষ্ট থাকে না, তখন পরিস্থিতি মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার কারণে তাকে মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তার দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার স্ত্রীকে জোর করে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এছাড়া স্বর্ণালংকার নিয়ে বিরোধের কথাও ভিডিওতে তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্বরাজসিংহের অভিযোগ, তার স্ত্রী চলে যাওয়ার সময় তাদের দেওয়া স্বর্ণালংকার পরেছিলেন। কিন্তু পরে নিজেদের জিনিসপত্র ফেরত চাইলেও তারা কোনো প্রতিকার পাননি। তার দাবি, পুরো ঘটনায় কেবল তার পরিবারের ওপরই চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
ভিডিওতে নিজের শ্বশুরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিশ্বরাজসিংহ। তিনি বলেন, তার শ্বশুর নিজেকে বাবার মতো দাবি করতেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সবশেষে, যুবকটি নিজের মা ও ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু আমার মা এবং আমার ১৬ বছরের ছোট ভাইয়ের কী হবে, যাকে মিথ্যাভাবে যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় জড়ানো হয়েছে?’
বিশ্বরাজসিংহের ভিডিওতে তার সাবেক স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় ২০২৬ সালের ‘সেরা চিকিৎসক’ সম্মাননা অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। এই সম্মাননা তাকে প্রদান করেছে খ্যাতনামা সাময়িকী ‘ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিন’।
চিকিৎসকদের সরাসরি ভোট এবং সহকর্মীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়ে থাকে। ডা. জিয়াউদ্দিন গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই সম্মাননার তালিকায় নিজের স্থান ধরে রেখেছেন।
ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যিনি সাদেক নামেও পরিচিত, বর্তমানে টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের লুইস কাটজ চিকিৎসাবিদ্যা অনুষদে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত।
দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের কারণে সৃষ্ট কিডনি রোগের চিকিৎসা ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। রোগীদের প্রতি তার আন্তরিকতা, চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদান এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসক তৈরিতে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশংসিত।
ডা. জিয়াউদ্দিনের এই অর্জনে তার সহকর্মীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের মতে, ২০২৬ সালের ‘সেরা চিকিৎসক’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার মাধ্যমে তার পেশাগত দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং রোগীদের প্রতি নিবেদন প্রকাশ পায়।
এদিকে, ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্যরাও তার এই সাফল্যে আনন্দ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধুমাত্র ডা. জিয়াউদ্দিনের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি পুরো বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘রাজনীতিতে আমার বাবার মতো সত্যবাদী মানুষের সংখ্যা খুবই কম। আমরা যে পাপ করেছি, তার মাসুল এখন আমাদের দিতে হচ্ছে,’ এসব মন্তব্য করেছেন রুমিন ফারহানা। তিনি ভাষাসৈনিক অলি আহাদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখছিলেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বাদ আসর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর দ্বিতীয় গেট এলাকার নিজ বাসভবনের সামনে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে রুমিন ফারহানা বলেন, আজকের বাংলাদেশের রাজনীতির যে অবস্থান, এর জন্য আমরা সবাই দায়ী। এ সময় তিনি তার বাবার রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ। বক্তারা ভাষাসৈনিক অলি আহাদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্বিত সন্তান ও বিশিষ্ট নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তার অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ, অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম এবং অ্যাডভোকেট ফরহাদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে, ইরানের সীমান্তে উড়ে গিয়ে ফিরে এসেছে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর ডজনখানেক যুদ্ধবিমান। গত সোমবারের এই অভিযানে যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশগ্রহণ করে।
এই তথ্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়।
এই সামরিক কার্যক্রমের সময়, ইরানে নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে পরিচালিত এই অভিযানটি ইরানকে সামরিক শক্তির বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল। তবে কর্মকর্তারা জানান, এটি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরাইল সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। সোমবারই হেগসেথ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইরানের সীমান্তের দিকে অগ্রসর হয়। তাদের উড্ডয়নপথ ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য ব্যবহৃত পথের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে ইরানের সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর পর বিমানগুলো দিক পরিবর্তন করে ইসরাইলে ফিরে আসে।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা এই অভিযানকে নিয়মিত সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে সতর্ক করা এবং ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা। তবে এ ধরনের অভিযান থেকে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
যদি ইরান যুদ্ধবিমানগুলোকে আসন্ন হামলার প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করে পাল্টা পদক্ষেপ নিত, তাহলে পরিস্থিতি নতুন করে যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারত।
তবে অভিযানটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে ভিন্ন ধরনের সন্দেহও তৈরি হয়েছে। তাদের ধারণা, ইসরাইল জানত যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তাদের যুদ্ধবিমানগুলোর গতিবিধি শনাক্ত করতে পারবে।
সূত্রের দাবি, অভিযান শুরুর পূর্বে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানিয়ে ছিল। ইসরাইল এটিকে প্রশিক্ষণ মহড়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিল, এর উদ্দেশ্য ছিল সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে ইরানকে ইসরাইলে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখা।
তবে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, ইসরাইল হয়তো আশা করেছিল যে ইরান যুদ্ধবিমানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানোর যুক্তি তৈরি হতে পারত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ