প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি কারণ তারা প্রবেশপত্র পাননি।
যদিও কলেজের এক খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণের চেষ্টা করেছিলেন তারা, অভিযোগ রয়েছে যে তিনি প্রতারণা করেছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকালে কলেজের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কলেজ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে তিন বিভাগে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তবে মানবিক বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে না পারায় তারা কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের কাছে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণের প্রতিশ্রুতি পান। তিনি প্রায় দুই মাস আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়েছেন।
২৪ জুন অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হলেও ওই ১০ শিক্ষার্থী তা পাননি। শাওন তাদের জানিয়েছেন যে দেরিতে ফরম পূরণ করায় কিছুটা সময় লাগবে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড পেতে। পরবর্তীতে ৩০ জুন ও ১ জুলাই দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি সময়ক্ষেপণ করেছেন। বুধবার রাত ৯টার পর থেকে শাওনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার পরীক্ষার দিন প্রবেশপত্র না পেয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সম্রাট সরকার বলেন, শাওন নিজেকে কলেজের স্টাফ পরিচয় দিয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করবেন। সেই বিশ্বাসে আমরা টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি শুধু আশ্বাস দিয়ে সময় পার করেছেন। এখন আমাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়ে গেল। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি আমাদের।
মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান বলেন, বুধবার বিকেলে দুই শিক্ষার্থী এর বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি জানান, কলেজে সব ধরনের ফি ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া হয় এবং ফরম পূরণের জন্য আলাদা কমিটি রয়েছে। হাতে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
তিনি আরও বলেন, শাওন খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। বিষয়টি জানার পর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বর্তমানে তার মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন