প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বছর বছর সংস্কারহীন স্লুইসগেট, অকার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নদী-খালের নাব্য সংকট এবং দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে পেকুয়ার মানুষের ক্ষোভবার্তা শুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্থায়ী সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে জনগণকে রক্ষা করার জন্য ঘোষণা করেছেন, স্লুইস গেটের সব ধরনের ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করা হবে। সুদৃঢ় বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল ও নদী পুনঃখনন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য সরকার একটি সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দিনব্যাপী পেকুয়ার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ ও দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন স্লুইসগেট ঘুরে দেখেন এবং আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ ও গৃহস্থালি উপকরণ হস্তান্তর করেন। তাছাড়া বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার পেকুয়ার মানুষকে বারবার বন্যায় দুর্ভোগে ফেলতে চায় না। সেজন্য সব বেড়িবাঁধ টেকসইভাবে তৈরি করা হবে। সংস্কারবিহীন স্লুইস গেটগুলোর আধুনিকায়ন করা হবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং লবণাক্ত পানির অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ রোধ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্লুইস গেটের সকল প্রকার লিজ বা ইজারা ব্যবস্থা বাতিলের কথাও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দখল হওয়া খাল ও নদী পুনঃখনন করা এবং দখলমুক্ত করতে বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার শুধু ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য কৃষক, মৎস্য-চাষি, পশু পালনকারী, লবণ চাষি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
বারবাকিয়া ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি বলেন, ত্রাণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্ড বড় বিষয় নয়। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।
শিলখালী ইউনিয়নে তিনি বলেছেন, প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এ অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। টৈটং ইউনিয়নে পাহাড় ধসের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারকে পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে বলেও তিনি জানান।
দীর্ঘদিনের দাবির ছনুয়া-রাজাখালী সেতু নির্মাণ নিয়ে আশ্বাস দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
দিনব্যাপী সফরে তিনি বারবাকিয়া, শিলখালী, টৈটং, মগনামা, রাজাখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। এছাড়া আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ ও গৃহস্থালি উপকরণ হস্তান্তর করা হয়।
বিকেলে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যাকবলিত জনপদ, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ এবং দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন স্লুইসগেট পরিদর্শনের কর্মসূচিতেও অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন