প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় আব্দুল করিম (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ দাফন করা হয়েছে বসতঘরেই, কারণ তার নিজস্ব জমি নেই।
এ ঘটনা ঘটে সোমবার (২৬ অক্টোবর) উপজেলার তাতিহাটী ইউনিয়নের শালমারা এলাকায়। আব্দুল করিম শালমারা গ্রামের মৃত শমসের আলীর পুত্র।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল করিমের বসতভিটা ছাড়া আর কোনো জমি নেই। শালমারা এলাকায় পারিবারিক কবরস্থান ছাড়া গণকবরস্থানের অভাব রয়েছে। এর ফলে যাদের পারিবারিক কবরস্থান নেই, তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি হয়। অনেকে বাড়ির আঙিনায়, বসতবাড়ির সামনে, কিংবা বসতঘরের পাশে মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হন। আব্দুল করিমের বসতঘরের জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও জমি না থাকায় তাকে বসতঘরেই দাফন করা হয়। এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
শালমারা গ্রামের মাসুদ মিয়া মন্তব্য করেন, ‘আমরা এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজকে শালামারা গ্রামে একটি গণকবরস্থানের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানাচ্ছি। কেউ এগিয়ে না আসায় আব্দুল করিমকে তার ঘরেই দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃজনক ও লজ্জার।’
বৃদ্ধের মেয়ে রিক্তা পারভীন জানান, ‘আমাদের বসতঘর ছাড়া আর কোনো জমি নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমার বাবাকে ঘরেই দাফন করেছি। তবে আর কোনো স্বজনকে বা এলাকার অন্য কাউকে যেন বসতঘরে দাফন করতে না হয়, এজন্য এলাকায় একটি গণকবরস্থান হওয়া দরকার।’
তাতীহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ বলেন, ‘শালামারা এলাকায় কোনো গণকবরস্থান নেই। বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) নিহত পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে পাশেই ষাইটকাকড়া গণকবরস্থানে ওই বৃদ্ধের মরদেহ দাফন করা হবে।’
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ জানান, ‘ওই ওয়ার্ডে কোনো সামাজিক কবরস্থান না থাকায় ঘরে দাফন করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে আমরা ঘটনাস্থলে যাব। পরিবারটির সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ওয়ার্ডের সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার উদ্যোগ নেয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘সমাজে একজন মানুষ মারা যাবে, তাকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হবে না- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি জানার পরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) বৃদ্ধের বাড়ির পাশে যে কবরস্থান রয়েছে, সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি সত্যিই মর্মাহত। এ খবরটি জানার পর পরই শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যকেও জনিয়েছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন