প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী জানিয়েছেন, সরকার পাহাড়ের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি ও পর্যটনভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, পাহাড়ের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবান ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কবুতর উড়িয়ে উদ্বোধন করেন পার্বত্যমন্ত্রী। পরে মাদ্রাসার কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়, যা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে মাদ্রাসার সাবেক ও বর্তমান শত শত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
পার্বত্যমন্ত্রী আলোচনা সভায় বলেন, সরকার পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে মানসম্মত শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট এলাকা নয়, বরং পুরো পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, নৈতিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্য সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানী ও দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রী পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চল কেবল একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়, বরং এর সঙ্গে পাহাড়ি জনগণের জীবন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য জড়িয়ে রয়েছে। এসব সম্পদ সংরক্ষণ করার পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রকৃতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠবে। পাহাড়ের উন্নয়নে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, যোগাযোগ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগকে আরো এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা হবে। তিনি পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি-বাঙালি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার শিক্ষার মানোন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড থেকে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন।
আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সচিত্র মৈত্রীর সম্পাদক অধ্যাপক মো. ওসমান গনি, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান কাদেরী, সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ বদরুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বান্দরবান ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণকে উৎসবমুখর করে তোলে। দীর্ঘ পাঁচ দশকের পথচলার স্মৃতিচারণ, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলন এবং নানা আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সুবর্ণজয়ন্তী প্রাণের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন