প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে পাসিঘাটে বিক্ষোভকারীরা একটি সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থা এনএইচপিসির অফিস ও একটি পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগ করেছেন বলে পুলিশ জানায়। এ সময় রাজ্যের দুই বিধায়ক এবং বিজেপি সভাপতির বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাটে সংঘটিত এই সহিংসতায় ৪০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন উপপুলিশ সুপারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আসামের ডিব্রুগড়ে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলের আঘাতে একজন বিক্ষোভকারীও আহত হন। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া সহিংসতা শনিবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের (এসইউএমপি) বিরোধিতায় শুক্রবার ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধের ডাক দিয়েছিল আদি বানে কেবাং ইউনাইটেডসহ কয়েকটি সংগঠন। বিকেল ৫টায় বন্ধ শেষ হওয়ার পরও বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। পরে ‘জেন জি’ নামে পরিচিত একটি যুবগোষ্ঠী পাসিঘাট-বোলেং মহাসড়ক অবরোধ করে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২০০ থেকে ৩০০ জনের কয়েকটি দল পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দিকে পাথর নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত নয়টি পুলিশি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত নিরাপত্তাকর্মীদের চিকিৎসার জন্য যাওয়া একটি হাসপাতালে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সহিংসতার সময় পাসিঘাটের বিধায়ক ওনি পাংইয়াং এবং নিনং এরিংয়ের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি কালিং মোয়ংয়ের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। আদি বানে কেবাংয়ের অফিসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পূর্ব সিয়াং জেলা প্রশাসন পাসিঘাট, মেবো ও রুকসিন এলাকায় জনসমাবেশ ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রশাসনের নির্দেশে শনিবার বিকেল ৫টা থেকে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।
অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু সহিংসতা ও সম্পত্তির ক্ষতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ জানানো সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, প্রকল্পের সম্ভাব্য সুবিধা ও নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগের উত্তর দেওয়া যেতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন