বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:১৮ এম
নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে আরেকটি বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে নদীর উজানে একটি বিশাল প্রতিবন্ধকতা বা ব্লকেজ এখনও আটকে রয়েছে। এই ব্লকেজ যেকোনো সময় ভেঙে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রলয়ংকরী বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) হঠাৎ করেই এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত ঘটে। এর ফলে ভোতে কোশি এবং ত্রিশূলি নদীর স্রোত বেয়ে প্রবল বেগে পানি, কাদামাটি এবং বিশাল আকারের পাথর ধেয়ে আসে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নদীগুলোর পানির স্তর বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে গিয়ে চারপাশ প্লাবিত করে ফেলে।
হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ ও দুর্যোগ ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড) এই নতুন বিপদের বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থাটি তাদের একটি বিস্তারিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, উজানে আটকে থাকা ব্লকেজটি দ্রুত অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুভিত্তিক এই আন্তঃসরকারি সংস্থাটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, চীন, ভুটান, পাকিস্তান, মিয়ানমার এবং আফগানিস্তানসহ হিন্দু কুশ হিমালয় অঞ্চলের আটটি দেশের পর্বত পরিবেশ, হিমবাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা অন্যতম প্রধান একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
হঠাৎ করে এমন প্রলয়ংকরী বন্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বর্তমানে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা। একইসঙ্গে উজানে আটকে থাকা ব্লকেজটি থেকে সামনের দিনগুলোতে আরও কী ধরনের বিপদ ধেয়ে আসতে পারে, তা দ্রুত মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন তারা। যেন সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।
সূত্র:এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লন্ডনে চিকিৎসাধীন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যু সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর খবরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিসচা।
নিসচার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন।
নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ গ্লিটজকে জানিয়েছেন, “মানুষ অতি উৎসাহী হয়ে এ ধরনের খবর ছড়ায়। লন্ডনে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, সেখানে তার চিকিৎসা ভালো চলছে, তিনি ভালো আছেন।
“একজন জীবিত মানুষকে নিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া মৃত্যুর মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে আমাদের সংগঠন।”
তথ্য যাচাই ছাড়া মৃত্যুর খবর ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন লিটন। তিনি বলেন, “এটি শুধু চরম দায়িত্বহীনতা নয়, বরং একজন মানুষের পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং তার প্রতি ভালোবাসা থাকা লাখো মানুষের অনুভূতির প্রতি নির্মম আঘাত।
“ইলিয়াস কাঞ্চন শুধুমাত্র একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার সঙ্গে দেশের অসংখ্য মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা জড়িত রয়েছে। ফলে তাকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি করে।”
মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়ানোর বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণও করা হয়েছে নিসচার এক বিজ্ঞপ্তিতে।
মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে লন্ডনে মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর দুই ধাপে চলছে কেমোথেরাপি।
১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন। এক সপ্তাহের বেশি সময় দেশের মাটিতে কাটিয়ে ১২ অগাস্ট চিকিৎসার জন্য ফের যুক্তরাজ্যে যান। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। এর মধ্যেই তার মৃত্যু খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় তিন দশকের অভিনয় জীবনে কয়েকশ সিনেমায় কাজ করেছেন এই অভিনেতা, যার শুরুটা হয় ১৯৭৭ সালে সুভাষ দত্তের বসুন্ধরা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর একের পর এক দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিলেও তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছান ১৯৮৯ সালে বেদের মেয়ে জোসনা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।
১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে, যা সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের (আইএসআইএল) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এই সিদ্ধান্তটি দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এসডিএফের প্রধান নিজেই গোষ্ঠীটির বিলুপ্তির খবরটি ঘোষণা করেছেন। সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপটি দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত প্রদান করছে।
মঙ্গলবার দামেস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসডিএফ নেতা মাজলুম আবদি উল্লেখ করেন, সিরীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে এসডিএফ পুরোপুরি একীভূত হয়ে গেছে। এখন থেকে স্বাধীন কোনো বাহিনী হিসেবে এর আর কোনো কার্যক্রম চলবে না।
এক সময় সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ কুর্দি নেতৃত্বাধীন এই বাহিনীর হাতে ছিল। তবে গত জানুয়ারিতে সরকারি বাহিনীর হামলায় তারা নিজেদের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এরপর তারা সরকারের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চুক্তিতে সই করেছে। এই চুক্তিতে সিরিয়ায় কুর্দিদের সাংস্কৃতিক, নাগরিক ও শিক্ষার অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
মাজলুম আবদি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজ আমরা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি। এর মাধ্যমে আমরা সিরিয়ার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাতা উল্টে দিলাম। আর শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন নামের একটি নতুন পাতা খুলতে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই আজকের এই দিনটি একটি সত্যিকারের পরিবর্তনের সূচনা হোক। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আমরা এখন বিনির্মাণের পথে যাব। আর অস্ত্রের যুগ পেরিয়ে আমরা শান্তির যুগে প্রবেশ করব।’
আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় এসডিএফ একসময় সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সহযোগী ছিল। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তখন আল-শারার নেতৃত্বাধীন দামেস্কের নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে।
‘সিরিয়ার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি মুহূর্ত’
দামেস্ক থেকে আল–জাজিরার প্রতিবেদক হেইডি পেট মন্তব্য করেন, এসডিএফ বিলুপ্ত হওয়ার ঘটনাটি ‘সিরিয়ার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মুহূর্ত’। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আল-শারা সরকারকে সমর্থন দেওয়ায় এসডিএফের নিয়তি বদলে যায়। এসডিএফের ভারী অস্ত্রগুলো কী হবে এবং ওয়াইপিজের নারী যোদ্ধাদের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে—এসব প্রশ্নের সমাধান না হওয়ায় একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সাত মাসের বেশি সময় লেগেছে।
হেইডি আরও বলেন, ‘ওয়াইপিজে যুক্তি দিয়েছিল যে তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া উচিত। কারণ, তারা পেশাদার সেনাসদস্য। তারা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেনাসদস্য হিসেবেই কাজ চালিয়ে যেতে চায়।’
আল–জাজিরার এই প্রতিবেদক বলেন, ‘দামেস্ক সরকার তাদের কেবল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছিল। এই অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর কারণেই এত দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।’
হেইডি পেট আরও বলেন, সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।
আসাদ পরিবারের ৫০ বছরের শাসনামলে কুর্দিরা সব সময় অবহেলিত ছিল। এমনকি তাদের অনেককে নাগরিকত্বও দেওয়া হয়নি।
দামেস্কে দেওয়া বক্তব্যে মাজলুম আবদি জোর দিয়ে বলেন, আল-শারা সরকার কুর্দি ভাষায় শিক্ষালাভের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টিতে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, চলতি বছর থেকেই কুর্দি ভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য তাঁরা কাজ করবেন।
‘সুদূরপ্রসারী প্রভাব’
এদিকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসডিএফের এই বিলুপ্তি একটি ঐক্যবদ্ধ সিরিয়া গড়ার পথ তৈরি করতে সাহায্য করবে।
সিরীয়-বংশোদ্ভূত মার্কিন অধ্যাপক ও লেখক সালেহ মুবারক বলেন, ‘আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সংঘাত এড়ানোর পথ খোঁজার জন্য আমি উভয় পক্ষকে, বিশেষ করে সরকারকে সাধুবাদ জানাই।’
আল–জাজিরাকে সালেহ বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে ‘দক্ষিণ এবং সম্ভবত পশ্চিমের অন্য বিদ্রোহীদের ওপরও একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। তারা বুঝতে পারবে যে সিরিয়া একটি অখণ্ড দেশ হিসেবেই থাকবে। ধর্ম, সম্প্রদায়, ভাষা ও বর্ণের দিক থেকে আমাদের যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা স্বীকৃতি পাবে এবং উদ্যাপিত হবে।’
তবে এই বিশ্লেষক বলেন, আল-শারা সরকার ভাষার অধিকারসহ কুর্দিদের নানা অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় তা ‘এখন পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে’।
এরপরও সালেহ বলেন, ‘কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই চুক্তিটি যে এই পর্যায় পর্যন্ত এসেছে, সেই দিক থেকে অবশ্যই এটি উদ্যাপনের দাবি রাখে।’
যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে তাদের ‘সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্রের’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঠিক এক দিন পরই এসডিএফের বিলুপ্তির ঘটনা ঘটল। সিরিয়ার ওপর কয়েক দশক ধরে এই তকমা লাগানো ছিল, যার কারণে দেশটিকে কঠিন অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হয়েছিল।
আল-আসাদের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
প্রেসিডেন্ট শারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সিরিয়া একটি কালো অধ্যায় থেকে বেরিয়ে এসেছে। দেশটি এখন উন্নয়ন, পুনর্গঠন এবং নতুন করে গড়ে ওঠার পথে অতীতের একটি যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় পেছনে ফেলল।’
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংবিধানে বৈষম্য না থাকার পরেও জাত প্রথা ভারতীয় সমাজে ব্যাপক বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। যুগের পর যুগ ধরে, শুধুমাত্র নিচু জাতের জন্মের কারণে মানুষকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। সরকার বিভিন্ন আইনি সুরক্ষা এবং কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিচু জাতের মানুষের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করলেও, গ্রামীণ ভারতে জাত প্রথা এখনও শক্তিশালীভাবে বিদ্যমান। অনেক এলাকায় নিচু জাতের মানুষদের অস্পৃশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বেশ কিছু গ্রামে নিম্নবর্ণের মানুষদের উচ্চবর্ণের পাড়ায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। সাধারণ কুয়া বা নলকূপ থেকে পানি নিতে বাধা দেওয়া, একই মন্দিরে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে আলাদা বসতে দেওয়ার মতো বৈষম্য ঘটছে নিয়মিত। জাতের বাইরে বিয়ে করা সামাজিকভাবে খুব সহজ নয়। জাতের মর্যাদা রক্ষার নামে তথাকথিত ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনাও ঘটে। এমনকি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিচু জাতের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ক্লাসরুম বা আলাদা বেঞ্চের ব্যবস্থা রয়েছে।
এ জাত প্রথার মানসিকতা থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য ভারতের হিমাচল প্রদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যের স্কুলের ভর্তি ফর্মে ‘জাত’ কলামটি বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
হিমাচল প্রদেশ তফশিলি জাতি কল্যাণ বোর্ডের বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে জাতভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে এবং ভ্রাতৃত্ব ও সমতার মনোভাব বৃদ্ধি করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরো বলেন, স্কুলের ভর্তি ফর্ম থেকে জাতের কলামটি বাদ দেওয়া এ লক্ষ্য অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে এবং এর ফলে শিশুরা যেন জাতের ভিত্তিতে কোনো ধরনের হীনম্মন্যতায় না ভোগে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তবে, তফশিলি জাতির সদস্যরা যখন সরকারি কোনো স্কিম বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবেন, তখন তারা তাদের জাতের বিবরণ বা তথ্য প্রদান করা অব্যাহত রাখবেন। যাতে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই তারা সরাসরি সুবিধাগুলো পেতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তফশিলি জাতির মানুষেরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সরকার সেগুলোর সমাধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের কল্যাণের জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্কিম বা প্রকল্প চালু করা হয়েছে, এবং সমস্ত যোগ্য সুবিধাভোগীদের এই উদ্যোগগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত যাতে তারা তাদের প্রাপ্য সুবিধাগুলো পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য না হন, সেজন্য উচ্চশিক্ষার জন্য মাত্র এক শতাংশ সুদের হারে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, সরকার অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের জন্য ‘আপনা পরিবার সুখী পরিবার যোজনা’ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এ স্কিমের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলোকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে এবং এ পরিবারগুলোর নারীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার রুপি করে পেনশন পাবেন।
এর আগে ভারতের তামিলনাড়ু, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যে জাত প্রথার কারণে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা ১৫৭-এ পৌঁছেছে। এছাড়া অন্তত ৪০৩ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। চীন-নেপাল সীমান্তের একটি নদীর দুই কূল উপচে গিয়ে তীব্র স্রোতে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। এর ফলে বহু ভবন কাদামাটি ও পানির নিচে চাপা পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা সেখানে আটকে পড়াদের সন্ধানে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহুঁতে সাতজন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি। নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণ কী। কেন এই দুর্যোগে এত প্রাণহানি ঘটলো?
বন্যা ও ভূমিধসের কারণ কী
এবারের বন্যা ও ভূমিধসকে ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। হঠাৎ এমন বন্যা ও ভূমিধসের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পরই এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে বলেন, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ঘটে। এর ৩ মিনিট পর, অর্থাৎ ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘তবে এটি আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে অনুভূত ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে প্রায়ই প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার প্রকোপ এবং ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে।
দ্রুত আরেকটি বন্যা আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (ইসিমোড) জলবায়ু ও পরিবেশ ঝুঁকি বিভাগের প্রধান চিয়াংগং ঝাং। তিনি এএফপিকে বলেন, নেপাল-চীন সীমান্ত নদীর উজানে এখনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে রয়েছে। ফলে যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।
এত প্রাণহানি কেন
নেপালে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ঘটে। এর ৩ মিনিট পর, অর্থাৎ ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। চীন-নেপাল সীমান্তের একটি নদীর দুই কূল উপচে গিয়ে তীব্র স্রোতে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। এর ফলে বহু ভবন কাদামাটি ও পানির নিচে চাপা পড়ে। সেখানে আটকে পড়ার কারণে প্রাণহানি বেশি হয়েছে।
দেশটির পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নদীর তীব্র পানির তোড়ে বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির ছবিতে দেখা যায়, কাদামাটির নিচ থেকে একটি বাড়ির শুধু ওপরের অংশটি দৃশ্যমান।
নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে তাদের প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই দুর্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে তারা সতর্ক করেছেন। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা উপদ্রুত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করেছে।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, আকস্মিক এই বন্যায় তিব্বতের গিরংয়ে তিনজন মারা গেছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৬৫ জন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নেপাল সীমান্তের তিব্বত বাণিজ্যকেন্দ্রে ভূমিধসে ‘ব্যাপক হতাহতের’ ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয়দের বর্ণনা
আকস্মিক বন্যায় স্বজন হারানো এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কল্পনা মাল্লা জানিয়েছেন, তার বাবা, মা, বোন এবং বোনের সন্তানরা চোখের সামনে বন্যার পানিতে ভেসে যান।
তিনি বলেন, তারা বন্যা থেকে বের হতে পারেননি। কোনো সুযোগই ছিল না। বন্যা সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। তবে আমি ও আমার ছেলে একটি বাড়ির ছাদে উঠে প্রাণে বেঁচেছি। কীভাবে বেঁচে গেলাম, তা-ই বুঝতে পারছি না।
কল্পনার ছেলে সুগাম মাল্লা জানান, মায়ের হাত ধরে তিনি নিরাপদে যান। বন্যার আগে তিনি তার মোবাইল ফোনটি বোনের কাছে দিয়েছিলেন, যাতে প্রয়োজনে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করা যায়। কিন্তু এখন বোনের ফোন বন্ধ। তার আশঙ্কা, বোন হয়তো বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন।
নেপালের রাসুয়া জেলার স্যাফ্রু বেসি গ্রামের বাসিন্দা ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ট্রেকিং গাইড সোনাম দর্জিও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তাঁর গ্রামে আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। তবে এর এক ঘণ্টা আগেই তিনি একটি কাজে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তাঁর বোন দেচেন তামাং, ভগ্নিপতি এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এখনো নিখোঁজ।
গ্রাম ছাড়ার সময় তিনি বন্যার ভয়াবহ শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন, মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। আমার বাড়ি ধসে গেছে।
সোনাম দর্জি বন্যাকে ‘হঠাৎ ও ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন। তার মতে, অনেক মানুষ এখন ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। তাদের জরুরি উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়া, খাবার, অস্থায়ী আশ্রয় এবং চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন। বোনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা এখনো ছাড়েননি সোনাম। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, তাকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা হয়তো ১০ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার ঘটনায় তার হৃদয় ভারাক্রান্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে পুরো জাতি স্তম্ভিত ও গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি এই দুর্যোগকে ‘আকস্মিক’ ও ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন।
বালেন্দ্র শাহ বলেন, উদ্ধার অভিযান শুরু করতে সরকার কোনো ধরনের বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, কাঠমুন্ডু টাইমস, এএফপি ও রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ