প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় একটি বাড়ির সীমানা প্রাচীর এবং গেট বসানোকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় এক নারীসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ২ আগস্ট (রবিবার) দুপুরের দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়া এলাকায়, মন্দিরের সামনের রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ভাণ্ডারিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়টি বর্ণনা করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রমা রানী দাস (৪৫) বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১০/১২ জনকে আসামি করে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় পুলিশ মো. শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার এবং রোববার রাতে ভাণ্ডারিয়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলা বাদী রমা রানী দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা জানালেন, রোববার দুপুরে রমা রানী তার বাড়ির প্রবেশদ্বারে লোহার গেট বসাতে গেলে পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী আনোয়ার হোসেন আকন এবং শহিদুল ইসলাম লোকজন নিয়ে বেআইনিভাবে বাধা প্রদান করেন। পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী আনোয়ার হোসেন আকন ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে রমা রানীকে কোপ দিতে উদ্যত হন। এ সময় হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করার প্রেক্ষিতে রমা রানীর বাম হাতের তালু ও আঙুল গুরুতরভাবে কেটে যায়। পরবর্তীতে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্বামী ননী দাস (৫৫) এবং ঝর্ণা রানী দাস (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিহত হতে গিয়ে এবং লাঠি দিয়ে আক্রমণ চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর ফুলা জখম হয়।
এ সময়ে আনোয়ার হোসেন রমা রাণীর ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ২,২০,০০০ টাকা) এবং শহিদুল ইসলাম ঝর্ণা রাণী দাসের ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ১,৬৫,০০০ টাকা) এবং ধাওয়া ইউনিয়ন জামায়াত আমির নাছির উদ্দিন নগদ ১৭ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। বর্তমানে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন আকন জানিয়েছেন, "এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। ওই দিন আমি হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।" উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. শামীম হাওলাদার বলছেন, "১৯৭১ সালে জামায়াত যে ভাবে নির্যাতন করেছে, সে ভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন শুরু করেছে।" ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ও প্রতিবাদ করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানিয়েছেন, "এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ শহিদুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে গতকাল সোমবার তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন