প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ১০০ মিটার বেড়িবাঁধের একটি বড় অংশ হঠাৎ করে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে আকস্মিকভাবে বাঁধের বড় একটি অংশ প্রায় ৮০ ফুট নদীতে চলে যায়। এ ছাড়া আরও ২০ ফুট মত ফাটল দেখা দেয়। এর ফলে পুরো বাঁধটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে। জামায়াতে ইসলামী উপজেলা সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওঃ রিয়াছাত আলী এবং ইউনিয়ন আমির মাওঃ ওহিদুজ্জামান স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বাঁধ রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বিএপি ও ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে লোকজন বাঁধ রক্ষায় তাদের সাথে যোগ দেন। চার শতাধিক মানুষ সারাদিন মাটি ও বস্তায় মাটি ভরে বাঁধ রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৩০ ফুট লম্বা ও ১৬ ফুট গোলাকার জিও টিউবে বালি ভরে বাঁধের পাশে ফেলে রক্ষার কাজ করা হয়। কিন্তু গভীর রাতে জোয়ারের পানিতে বাঁধের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে আবারও শত শত মানুষ বাঁধ রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়েন। রাত দেড়টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে কাজ করে ভাঙ্গন রোধ করা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে স্থানীয়রা মাটির বস্তার ফাঁক বন্ধ করার কাজে লিপ্ত হন। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৭টি টিউব দিয়ে বাঁধকে সুরক্ষায় কাজ করেছেন।
প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার বিঘা মাছের ঘের ও ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে এবং ২৫ সহস্রাধিক মানুষ ঘরবাড়িসহ সর্বস্ব ভেসে যাওয়ার শঙ্কায় সারারাত জেগে কাটিয়েছেন।
এসিল্যান্ড মিঠুন মৈত্র ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। ভাঙনের ভয়াবহতা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দেখে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, "জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে ভাঙন সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এসেছি। বাঁধের যে অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।"
সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পাউবো'র এসডিই রাশিদুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল আফসার মুর্তজা, উপজেলা আমির আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষারসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা ভাঙনস্থলের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিই রাশেদুজ্জামান জানান, "আমরা ঘটনাস্থলে সকাল ৮ টা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। তাৎক্ষণিকভাবে বস্তায় মাটি ভরে ডাম্পিং করা হচ্ছে। যত সময় লাগুক কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন।" সাতক্ষীরা পাউবো'র বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহমান তাজকিয়া বলেন, "জোয়ারের চাপে ঐ পয়েন্টে ধস নেমেছে। সেখানে বস্তা ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি জিও টিউব ব্যবহার করে বিকল্প বাঁধ তৈরির কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন