প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট দাবানলে পেরুতে জুন মাস থেকে বর্তমানে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় কয়েকশ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
বুধবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র (সিওইএন) জানায়, মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই কৃষক। দাবানল নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তারা আহত হন এবং পরে তাদের মৃত্যু ঘটে।
লিমা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুসকো অঞ্চল। চলতি মাসের শুরুতে ইনকা সভ্যতার নিদর্শন মাচু পিচুর নিকটবর্তী এলাকায় একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।
জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পেরুতে মোট ৪৫৭টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
লিমার সায়েন্টিফিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য সাউথের জীববিজ্ঞানী ড্যানিয়েল ভালে বলেন, এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক আবহাওয়ার সৃষ্টি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে পুরো পেরুর ওপর প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক বাতাসের বিশাল স্তর তৈরি হয়েছে।’
ফসল ফলানোর জন্য জমি পরিষ্কার করতে কৃষকেরা প্রায়শই ঝোপঝাড়ে আগুন দেন। এসব আগুন থেকেই অনেক সময় দাবানলের সূত্রপাত ঘটে। দাবানলে এক হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ১০০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়া ১২ হাজার হেক্টর প্রাকৃতিক উদ্ভিদও আগুনে পুড়ে গেছে।
সিওইএন জানায়, বুধবার আন্দিজ পর্বতমালা এবং পেরুর আমাজন অঞ্চলে সাতটি দাবানল জ্বলছিল।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশের উপরিভাগের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে।
চলতি বছরের ‘সুপার’ এল নিনো ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে এরই মধ্যে মধ্য আমেরিকাসহ কয়েকটি অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। খরার কারণে সেখানে প্রাণীও মারা যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন