প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র রহনপুর। এটি শুধুমাত্র এক টুকরো ভূখণ্ড নয়, বরং এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যের একটি অপূর্ব মেলবন্ধন। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ করে রহনপুর আজ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
প্রাচীনত্বের ছাপ রহনপুরের আনাচে-কানাচে স্পষ্ট দেখা যায়। সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক 'রহনপুর অক্টোবর গম্বুজ মসজিদ' কিংবা নওদা বুরুজ—এসব landmarks সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী। কথিত আছে, রহনপুর নামটি এসেছে ফারসি শব্দ 'রূহ' (আত্মা) এবং 'পুর' (নগর) থেকে, যার অর্থ আত্মিক শান্তির স্থান। শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতির আদান-প্রদান এই এলাকাকে করেছে সমৃদ্ধ।
যদিও রহনপুরের প্রধান পরিচিতি এর বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় নিহিত। এখানকার রেলওয়ে জংশনটি ভারত ও বাংলাদেশের পণ্যের পরিবহনের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। 'রহনপুর শুল্ক স্টেশন' দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, যা জাতীয় অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, এই শুল্ক স্টেশনটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিলে এবং প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু করা হলে দুই দেশের যাতায়াত ও বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অর্থনীতির পাশাপাশি রহনপুরের প্রাণ হচ্ছে কৃষি। সুস্বাদু ও বৈচিত্র্যময় জাতের আমের জন্য এই অঞ্চলের সুখ্যাতি সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। ফজলি, খীরসাপাত, আর ল্যাংড়ার মিষ্টি গন্ধে জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ়ে রহনপুরের হাট-বাজার মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। শুধু আমই নয়, বরেন্দ্র অঞ্চলের ধান এবং সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও রহনপুরের নাম সর্বদা শীর্ষে অবস্থান করে।
নদী-ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মেহনতি মানুষের কোলাহলে মুখরিত রহনপুর আজ বদলে যাওয়ার পথে রয়েছে। ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবং আধুনিক সম্ভাবনার হাত ধরে এই প্রাচীন জনপদ সামনে এগিয়ে চলেছে একটি নতুন ভবিষ্যতের দিকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন