প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার প্রেক্ষাপটে, দেশটির সরকার রোববার বেশি জ্বালানি ব্যবহারকারীদের জন্য পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানে পেট্রোলের দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। একজন ভোক্তা প্রতি মাসে প্রথম ৬০ লিটার পেট্রোলের জন্য প্রতি লিটারে ১,৫০০ তোমান, পরবর্তী ৫০ লিটারের জন্য ৩,০০০ তোমান এবং অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য প্রতি লিটারে ৫,০০০ তোমান পরিশোধ করেন। উল্লেখ্য, তোমান ইরানে ব্যবহৃত একটি অনানুষ্ঠানিক মুদ্রা, যা ১০ ইরানি রিয়ালের সমান।
এএফপি সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রোববার জানান, তৃতীয় ধাপের পেট্রোলের দাম দ্বিগুণ করে প্রতি লিটার ১০ হাজার তোমান নির্ধারণ করা হবে। নতুন দাম ইরানের স্থানীয় সময় ৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে কার্যকর হবে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে মোহাজেরানি বলেন, বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে বিভিন্ন দামের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কারণে শেষ পর্যন্ত প্রতি লিটারে ১০ হাজার তোমান দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে।
ইরান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং দেশটিতে জ্বালানির দামও বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কম। সরকার বহু বছর ধরে পেট্রোলে ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে আসছে, ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দেশটিতে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়।
পেট্রোলের দাম বাড়ানোর এই ঘোষণা এমন সময় এসেছে, যখন রোববার কালোবাজারে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দাম প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ২২ লাখেরও বেশি রিয়ালে লেনদেন হচ্ছিল। বিনিময় হার পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর আগে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের বিনিময় হার ছিল প্রায় ১৭ লাখ রিয়াল। এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে রিয়ালের দর আরও কমে প্রতি ডলারে ১৮ লাখ রিয়ালে নেমে যায়, যা ছিল রিয়ালের সর্বনিম্ন রেকর্ড।
গত মাসের শেষ দিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ নীতি প্রয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে ইরানের ওপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি করাই এই পরিকল্পনার লক্ষ্য।
নতুন পদক্ষেপগুলো ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দ্বারা আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে। ওই বছর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধও আরোপ করেছে, যার মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন